বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: গত বছরই পাকিস্তানের (Pakistan) সাথে সিন্ধু জল বন্টন চুক্তি(Indus Waters Treaty) স্থগিত করে দিয়েছিল ভারত। তারপর থেকে বিভিন্ন সময়ে নানাভাবে নরমে গরমে নয়া দিল্লিকে অনুরোধ করেছে ইসলামাবাদ। শেষ পর্যন্ত স্বার্থসিদ্ধির জন্য হেগের আদালতে অভিযোগ জানিয়েছিল পাকিস্তান। আর সেই আদালতের রায় তাদের পক্ষে গেলেও বিচারকদের সিদ্ধান্ত উড়িয়ে দিয়েছে ভারত। গত 31 আগস্ট, সিন্ধু চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের পক্ষে রায় দিয়েছিল হেগের আদালত। সেই রায় প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের অবস্থানের কথা জানিয়ে দেয় ভারত।
নিজের অবস্থানে অটল ভারত
হেগের সালিশি আদালত সিন্ধু জল বন্টন চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের পক্ষে রায় দিতে গিয়ে জানিয়েছিল, দুই দেশের সরকারের মধ্যে যথাযথ আলোচনার মধ্যে দিয়ে চুক্তিটি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত সেই চুক্তি বলবৎ থাকবে। একই সাথে ওই আদালত রায় দিতে গিয়ে এও জানায়, একতরফাভাবে সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করে দেওয়ার কোনও বিধান নেই। ভারতের কাছে এই চুক্তি বাতিল বা স্থগিত করার অধিকার নেই।
এখানেই শেষ নয়, পাকিস্তানের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে ওই আদালত চেনাব নদীর উপর 850 মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন রান-অফ-দ্য-রিভার রাতলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প দ্রুত বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে ভারতের তরফে একেবারে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়, নয়া দিল্লি এই আদালতকে কোনও দিনই স্বীকৃতি দেয়নি। সিন্ধু জল বন্টন যুক্তি নিয়ে যে রায় বিচারকরা দিয়েছেন, তা সরাসরি খারিজ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: দল থেকে বিচ্ছিন্ন হার্দিক, টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়ক হলেন দাদা ক্রুনাল পান্ডিয়া
পাকিস্তানের জন্য বিকল্প পথ খোলা?
হেগের সালিশি আদালতের রায়ের উপর ভিত্তি করে সিন্ধু জল বন্টন চুক্তির শর্ত মেনে চলার দাবিতে আন্তর্জাতিক আদালত থেকে শুরু করে বিশ্বব্যাঙ্ক সহ অন্যান্য ফোরামের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভারতের উপর চাপ বৃদ্ধি করতে পারে পাকিস্তান। এছাড়াও রাটলে প্রকল্পের উপর হেগ আদালতের আরোপিত অন্তর্বর্তীকালীন শর্তাবলিকে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তান চেনাব ও ঝিলাম নদীর ওপর নির্মিতব্য অন্যান্য ভারতীয় রান-অফ-দ্য-রিভার প্রকল্পগুলোর নকশা ও সক্ষমতা পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানাতে পারে।










