লাহোরে বহুতল থেকে পড়ে মৃত্যু লস্করের জঙ্গি নেতা আবু হাশিমের, কারণ ঘিরে রহস্য

Published:

Chowdhury Muhammad Sarwar

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: লস্কর-ই-তইবার (Lashkar-e-Taiba) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তথা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসবাদী চৌধুরী মহম্মদ সরওয়ার ওরফে আবু হাশিমের (Chaudhry Mohammad Sarwar Abu Hashim) মৃত্যু ঘিরে ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। বিভিন্ন প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৮ অক্টোবর লাহোরের (Lahore) একটি বহুতল ভবন থেকে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে ঠিক কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসেনি। কোনও কোনও রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, তিনি ভবনের চতুর্থ তলা থেকে পড়ে যান। অন্যদিকে, কয়েকটি প্রতিবেদনে সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

কীভাবে ঘটল এই ঘটনা?

লস্কর-ই-তইবার ডেপুটি চিফ সইফুল্লাহ কাসুরির একটি অডিও রেকর্ডিংয় সামনে এসেছে। ওই রেকর্ডিংয়ে দাবি করা হয়েছে, সরওয়ার আসরের নমাজ পড়তে যাওয়ার সময় সিঁড়িতে পড়ে যান এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান। যদিও এর কোনও উপযুক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

সূত্র অনুযায়ী, সরওয়ার শুধু লস্কর-ই-তইবার প্রতিষ্ঠাতা সদস্যই ছিলেন না, সংগঠনটির আর্থিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তিনি লস্করের অর্থ সংগ্রহকারী শাখা খিদমত-এ-খলকের ডেপুটি চিফ এবং পাঞ্জাব প্রদেশের প্রধান হিসেবে কাজ করতেন। সংগঠনের জন্য নতুন সদস্য নিয়োগ এবং পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনুদান সংগ্রহের দায়িত্বও তাঁর উপর ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। লাহোরের মার্কাজ কুদেসিয়া ভবনটি লস্করের সদর দফতর হিসেবে পরিচিত।

২০১৬ সালে মার্কিন অর্থ দফতরের বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দফতর (OFAC) সরওয়ারকে বিশেষভাবে চিহ্নিত আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ছিল, তিনি লস্করের আর্থিক নেটওয়ার্ক পরিচালনা এবং সংগঠনের কার্যকলাপের জন্য অর্থ সংগ্রহ ও স্থানান্তরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মার্কিন পদক্ষেপের লক্ষ্য ছিল সংগঠনটির আর্থিক জোগানের যাবতীয় পথ বন্ধ করা। লস্করের প্রধান হাফিজ সইদের সঙ্গেও সরওয়ারের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে গায়ক জুবিনের বাবা, দলত্যাগের কারণ নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ

অন্যদিকে, সরওয়ারের আরও একটি পরিচয় ছিল। তিনি পাকিস্তান মার্কাজি মুসলিম লিগের পাঞ্জাব প্রদেশের প্রধান হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। ওই দলের এক মুখপাত্র তাঁর মৃত্যুর খবর জানালেও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করেননি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টায় লাহোরের মার্কাজ কুদেসিয়ায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছিল। এটি কোনও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি নিছক দুর্ঘটনা, তা এখন তদন্ত সাপেক্ষ।

google button