ভারতের কাছে নতি স্বীকার? রাশিয়া থেকে তেল কেনার ছাড়পত্র দিল আমেরিকা

Published:

Russian Oil

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এবার রাশিয়ার কাছে নতি স্বীকার করল ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)? আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নাটকীয় মোড়! মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগেই যেখানে ওয়াশিংটন কড়া হুঁশিয়ারি দিচ্ছিল, আজ সেই অবস্থান থেকেই পাল্টা ঘুরে গেল ট্রাম্পের প্রশাসন। শুক্রবার গভীর রাতে মার্কিন রাজস্ব দফতর এক বিবৃতি জারি করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ভারত সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলি রাশিয়া থেকে এবার কোনও বাধা ছাড়াই তেল (Russian Oil) কিনতে পারবে।

কী বলা হল মার্কিন বিবৃতিতে?

মার্কিন রাজস্থ দফতরের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ১৬ মে পর্যন্ত রাশিয়া থেকে ভারত সহ অন্যান্য দেশগুলি তেল কিনতে পারবে। তবে এই ছাড়ের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ শর্ত দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, যে সমস্ত রুশ তেলবাহী জাহাজগুলি ইতিমধ্যেই সমুদ্রের পথে রওনা হয়েছে, শুধুমাত্র সেই জাহাজগুলো থেকেই তেল কিনতে পারবে দেশগুলি। তবে নতুন করে কোনও তেলের অর্ডার বা লেনদেন এই ছাড়ের আওতায় পড়ছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে মূলত দুটি কারণে। প্রথমত, ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের যোগান কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। আর হরমুজ প্রণালী সংকটে পড়লে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির অভাবে হাহাকার পড়তে পারে। সেই কারণেই এই পদক্ষেপ। যদিও আজ ইরানের তরফ থেকে হরমুজ খুলে দেওয়া হয়েছে প্রত্যেকটি দেশের জন্য। এদিকে রাশিয়ার উপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা চাপানোর আগে বহু রুশ জাহাজ মাঝ সমুদ্রে আটকে ছিল। আর সেগুলোর কোনও ক্রেতা না থাকার কারণে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় জট পাকানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। সেই কারণেই হয়তো ট্রাম্পের ইউটার্ন।

আরও পড়ুন: ডিলিমিটেশন বিল ২০২৬ আদতে কী? সাধারণ মানুষের উপর এর কী প্রভাব পড়বে?

ভারতের স্বস্তি নাকি ক্ষতি?

তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভারতের লাভ-ক্ষতির বিষয়ে উঠছে বিভিন্ন রকম প্রশ্ন। হরমুজ প্রণালী নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে রুশ তেল কেনার ছাড় ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তাকে একদিকে নিশ্চিত করছে ঠিকই, যার ফলে দেশের বাজারে তেলের সংকট হওয়ার ভয় আপাতত নেই। তবে রয়েছে চ্যালেঞ্জও। কারণ, একসময় ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে সবথেকে বেশি ছাড়ে তেল কিনেছে। তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তেলের দাম অনেকটাই বেশি। যার ফলে ভারত ছাড় পেলেও তেল কিনতে হতে পারে আন্তর্জাতিক বাজার দরেই।