আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: বাংলাদেশে (Bangladesh) ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফের সামনে এলো এক ভয়াবহ গণপিটুনির ঘটনা। সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (Wahiduzzaman Shamim) নামে এক ব্যক্তিকে দু’দফায় মারধরের অভিযোগ উঠেছে। প্রথমবার জনতার হামলার হাত থেকে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছিল পুলিশ (Police)। কিন্তু সেখানেও শেষরক্ষা হয়নি। অভিযোগ, রাতের দিকে বিপুল সংখ্যক মানুষ হাসপাতালে ঢুকে পড়ে, এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেই আধমরা ব্যক্তিকে ফের মারধর করে। পরপর দুইবার আঘাত সহ্য করতে পারেনি শামীম। তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। এরপর সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত এলাকা।
কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত?
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, শামীমের কিছু কথোপকথনের অডিয়ো ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল। যার ফলে এলাকায় কিছু মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। ওই অডিয়োতে ইসলাম ধর্ম ও হজরত মহম্মদকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। অডিয়ো ছড়িয়ে পড়ার পরেই তাঁকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য। মঙ্গলবার বিকেলে দেবহাটা উপজেলার সখীপুর এলাকায় তাঁকে মারধর করা হয় বলে পরিবারের দাবি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
হাসপাতালেও ফের হামলা
সূত্র অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ পুলিশ খবর পায় যে স্থানীয় কয়েকজন মিলে এক ব্যক্তিকে আটকে বেধড়ক মারধর করছেন। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু রাত প্রায় ৮টা ৪০ মিনিট নাগাদ ২০০ থেকে ২৫০ জনের একটি দল হাসপাতালে ঢুকে পড়ে। পুলিশ, ও চিকিৎসাকর্মীদের বাধা উপেক্ষা করে হামলাকারীরা হাসপাতালের পিছনের দরজা ভেঙে ওয়ার্ডে ঢুকে পড়ে বলে অভিযোগ। এরপর অন্য রোগীদের সামনেই চিকিৎসাধীন শামীমকে মারধর করা হয় এবং তাঁকে ওয়ার্ডের বাইরে টেনে নিয়ে গিয়েও আক্রমণ করা হয়। পুলিশ পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছিল।
দ্বিতীয়বার হামলার পর শামীমের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। মৃতপ্রায় ৩৮-এর শামীমকে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। বুধবার রাত প্রায় ১টা নাগাদ তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তাঁর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, শামীমের পরিবারের বক্তব্য, গত কয়েক দিন ধরেই তাঁর আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা যাচ্ছিল। পরিবারের আরও দাবি, অডিয়ো ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ার পর শামীমকে ঘিরে হুমকি ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। ঘটনার আগে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টাও নাকি করেছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন: দুর্গাপুর যাওয়ার পথে মারাত্মক দুর্ঘটনার সম্মুখীন অগ্নিমিত্রা পাল, কনভয় থামিয়ে যা করলেন মন্ত্রী
পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
ঘটনার পর হাসপাতাল চত্বরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। দেবহাটা থানার ওসি এইচ এম শাহিনের বক্তব্য অনুযায়ী, শামীমের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ দায়ের হলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে এই ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে কি না, তা এখনও জানা যায়নি। পুলিশের নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন একটি ঘটনা ঘটতে পারে? দাবি সাধারণ মানুষের।










