আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: শুধু মুখের যত্ন নিলে হবে? মুখের সাথে সাথে পায়েরও যত্ন নিতে হবে। শুষ্ক আবহাওয়া, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা, খালি পায়ে হাঁটা ইত্যাদি নানান কারণে গোড়ালি রুক্ষ হয়ে যেতে পারে। কখনও কখনও গোড়ালির (Cracked Heels) চামড়া শক্ত হয়ে ফেটেও যায়। এতে হাঁটাচলা করার সময় ব্যথা হতে পারে, এমনকী গভীর ফাটল থেকে রক্তও বেরোতে পারে। তবে পায়ের ত্বক আর্দ্র রাখা এবং নিয়মিত যত্ন (Foot Care) নেওয়ার মাধ্যমে এই ফাটা গোড়ালির সমস্যা অনেকটাই সামলানো সম্ভব। এর জন্য দামি ফুট কেয়ার প্রোডাক্টের প্রয়োজন নেই। বাড়িতে (Home Remedie) থাকা কিছু সাধারণ উপকরণ কাজে লাগিয়েই ফাটা গোড়ালি সারিয়ে ফেলা সম্ভব। এই প্রতিবেদনে এমনই কিছু উপায় দেওয়া হলো।
১. পাকা কলার পেস্ট
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগলেও পায়ের শুষ্ক ত্বকের যত্নে পাকা কলা কিন্তু ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। একটি পাকা কলা ভালো করে চটকে গোড়ালি ও পায়ের রুক্ষ অংশে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট রেখে দিন। তারপর সাধারণ জল দিয়ে ধুয়ে নিন। কলার নরম মণ্ড ত্বকে আর্দ্রতা জোগাতে সাহায্য করবে।
২. মধু দিয়ে পায়ের যত্ন
মধু ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে ভীষণ সহায়ক একটি উপাদান। অল্প মধু পরিষ্কার, অক্ষত গোড়ালিতে লাগিয়ে কয়েক মিনিট রেখে জল দিয়ে ধুয়ে নিতে পারেন। তবে মধু ফাটা গোড়ালির নিশ্চিত চিকিৎসা নয়। ত্বকে জ্বালা বা অ্যালার্জি হলে ব্যবহার না করাই ভালো।
৩. ভেজিটেবল অয়েল বা নারকেল তেল
রান্নায় ব্যবহৃত কিছু উদ্ভিজ্জ তেল শুষ্ক ত্বক নরম রাখতে সাহায্য করতে পারে। অল্প নারকেল তেল বা সাধারণ ভেজিটেবল অয়েল পায়ের অক্ষত, শুষ্ক অংশে লাগিয়ে দেখতে পারেন। রাতে ব্যবহারের পর পরিষ্কার সুতির মোজা পরে নিন। তবে গভীর ফাটল, রক্তপাত বা সংক্রমণ থাকলে শুধু তেলের উপর নির্ভর না করাই ভালো।
৪. ভ্যাসলিন
ফাটা ঠোঁটের মতো ফাটা গোড়ালির যত্ন নিতে ব্যবহার করা যায় পেট্রোলিয়াম জেলি বা ভ্যাসলিন। রাতে পা ভালো করে পরিষ্কার করে নিন। ত্বক সামান্য ভেজা ভাব থাকতে থাকতেই গোড়ালিতে ভ্যাসলিন লাগিয়ে সুতির মোজা পরে নিন। এতে ত্বকের আর্দ্রতা আটকে থাকে এবং শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরাও শুষ্ক ও ফাটা গোড়ালির যত্নে এই পদ্ধতির পরামর্শ দেন।
৫. গ্লিসারিন দিয়ে আর্দ্রতা বজায় রাখা
গ্লিসারিন এমন একটি উপাদান, যা ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। শুষ্ক পায়ের ত্বকের এমন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন যাতে গ্লিসারিন আছে। এছাড়া গ্লিসারিন ও গোলাপজল মিশিয়েও ব্যবহার করতে পারেন।
৬. হালকা গরম জলে পা ভিজিয়ে রাখুন
পায়ের ত্বক পরিষ্কার রাখতে এবং শক্ত হয়ে থাকা মৃত কোষ নরম করতে হালকা গরম জলে প্রায় ১০ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখা যেতে পারে। এরপর পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে আলতো করে মুছে গোড়ালিতে ময়েশ্চারাইজার বা ভ্যাসলিন লাগান। খুব গরম জলে পা ভেজাবেন না এবং শক্ত ব্রাশ, ব্লেড বা ধারালো কিছু দিয়ে চামড়া তুলবেন না।
৭. জুতো বাছাইয়ের দিকেও নজর দিন
শুধু ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার করলেই হবে না, পায়ের উপর চাপ ও ঘর্ষণ কমানোও অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘক্ষণ খালি পায়ে হাঁটা এড়িয়ে চলুন। গোড়ালি খোলা থাকে এমন জুতো বা ঠিকমতো ফিট না হওয়া চটি ফাটল বাড়াতে পারে। তাই আরামদায়ক, সঠিক মাপের জুতো পরুন এবং প্রতিদিন পায়ের ত্বক পরিষ্কার রাখুন।
আরও পড়ুন: পূজার ধুনুচিতে খাসির মাংস? সানন্দার ফেসবুক পোস্ট ঘিরে তুমুল বিতর্ক
গোড়ালির ফাটল গভীর হলে, রক্ত বেরোলে, পা ফুলে গেলে, লাল হয়ে গেলে বা পুঁজ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নিয়মিত যত্ন নেওয়ার পরও সমস্যা না কমলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যান। বিশেষত ডায়াবেটিস থাকলে পায়ের ফাটলকে অবহেলা করা উচিত নয়।










