ডলারের বিপরীতে ফের বদল ভারতীয় রুপির, কত রেট আজ?

Published:

Indian Rupee

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার জেরে ফের ভারতীয় মুদ্রার (Indian Rupee) উপর পড়ল কোপ। বৃহস্পতিবার মার্কিন ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকায় আবারও পতন দেখা গেল। একদিনে প্রায় ৫০ পয়সা দুর্বল হয়ে ডলারের (United States Dollar) বিপরীতে রুপির মূল্য দাঁড়িয়েছে ৯৫.৭৫ টাকা। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের অর্থ তুলে নেওয়া আর শেয়ারবাজারের দুর্বল অবস্থা এই পতনের কারণ।

ফরেক্স বাজারে বিরাট ধাক্কা

আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে বৃহস্পতিবার রুপি শুরুতেই চাপের মুখে পড়েছিল। দিনের শুরুতে ডলারের বিপরীতে রুপির মূল্য দাঁড়ায় ৯৫.৫৫ টাকা। যদিও পরে তা আরও দুর্বল হয়ে দিনের শেষে ৯৫.৭৫ টাকায় গিয়ে বন্ধ হয়। আগের দিনের তুলনায় যা ৫০ পয়সা কম। উল্লেখ্য, বুধবার রিজার্ভ ব্যাংকের হস্তক্ষেপে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল টাকা, এবং ১৬ পয়সা শক্তিশালী হয়ে ৯৫.২৫ টাকায় বন্ধ হয়েছিল। কিন্তু সেই স্বস্তি মাত্র একদিনও টিকল না।

বেশ কিছু বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে সবথেকে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি। আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে গোটা অঞ্চলে এখন যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে ও বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে। যুদ্ধের আগে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের দিকেই ঝুঁকছে। যার কারণে ডলারের চাহিদা বাড়ছে। এমনকি একইসঙ্গে ভারতীয় বাজার থেকে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের টাকা তুলে নেওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে। বুধবার বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ারবাজার থেকে ২০০০ কোটি টাকার বেশি তুলে নিয়েছেন বলে খবর।

তবে রুপির পতনের পাশাপাশি এদিন ধাক্কা খেয়েছে দেশের শেয়ারবাজারও। সেনসেক্স প্রায় ১৫১ পয়েন্ট পড়ে ৭৩,৮৩২-এ বন্ধ হয়েছে। অন্যদিকে আবার নিফটি ৫৩ পয়েন্টের বেশি পড়ে ২৩,১৬১-তে এসে দাঁড়িয়েছে। বেশ কিছু বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগামী দিন হয়তো মুদ্রার বাজারে আরও প্রভাব পড়তে পারে।

আরও পড়ুন: ভারতের সাথে আলোচনায় বসে সমস্যা মেটানোর ইঙ্গিত, হঠাৎ পাল্টি নেপালের!

তেলের দাম নিয়ে চিন্তা

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের সূচক শক্তিশালী হয়েছে। ডলার ইনডেক্স বর্তমানে ১০০ এর উপরে উঠে গিয়েছে। আবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দামে সামান্য পতন দেখা গিয়েছে। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ভবিষ্যতে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তার সরাসরি প্রভাব ভারতের আমদানির উপর, যা মুদ্রাস্ফীতি ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ অনেকটাই বাড়াতে পারে।