সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার মধ্যে একধাক্কায় অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছে ভারতীয় মুদ্রা (Indian Rupee)। সোমবার সপ্তাহের শুরুর দিনই মার্কিন ডলারের (United States Dollar) বিপরীতে রুপির দাম আরও ৩৫ পয়সা মজবুত হয়েছে। এদিন বাজার খোলার সময় রুপির বিনিময় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৯৫.৩৪ টাকা, যা গত শুক্রবারের বন্ধ হওয়া দর ৯৫.৬৯ টাকার থেকে অনেকটাই বেশি।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, গত সপ্তাহে ডলারের বিপরীতে রুপির মান রেকর্ড পতন হয়ে একেবারে ৯৭ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। আর সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে সোমবারের এই উত্থান গত দুই সপ্তাহের মধ্যে রুপির সর্বোচ্চ দর।
রুপির প্রত্যাবর্তনের নেপথ্যে বড়সড় কারণ
আসলে সোমবার বাজার খোলার পর থেকে রুপির গ্রাফ যেভাবে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে তার পেছনে বিশেষ করে তিনটি কারণ কাজ করছে বলেই দাবি বিশেষজ্ঞদের। সেগুলি হল—
- প্রথমত, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রার একটি বক্তব্য বাজারকে চাঙ্গা করছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ফরেক্স মার্কেটে মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আরবিআই যা প্রয়োজন সবকিছুই করবে। এমনকি একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সাম্প্রতিক পতনের পর রুপির বর্তমান মূল্য তার প্রকৃত মূল্যের থেকে অনেকটাই কম।
- দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৪.৬% কমে আবারও ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে গিয়েছে। আর গত দুই সপ্তাহের মধ্যে এই পতনের জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম এতটা সস্তা হল। যেহেতু ভারত তার প্রয়োজনের সিংহভাগ তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে, তাই তেলের দাম কমলে দেশের আমদানি বিল বাড়ে এবং ভারতের মুদ্রা শক্তিশালী হয়।
- তৃতীয়ত, আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা তিথিয়ে আসার কারণে বিশ্ব বাজারে ঝুঁকি অনেকটাই কমেছে। আর এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে মুদ্রার উপরে।
আরও পড়ুন: সরকারি হাসপাতালে দালালরাজ আর নয়! চালু বিশেষ আইকার্ড ব্যবস্থা
এদিকে টেন্ডারের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত সপ্তাহে রুপি যখন ৯৪ এর দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিল, ঠিক তখন দু’দিন রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অত্যন্ত আগ্রাসীভাবে ডলার বিক্রি করে বাজার নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করে। আর এই জোরদার হস্তক্ষেপই সোমবার সকালে সুফল দিয়েছে। এমনকি একই সঙ্গে এশিয়ার শেয়ার বাজারগুলোতে ইতিবাচক হওয়া বইতে শুরু করার কারণে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়েছে, এবং সোমবার এশিয়ার সিংহভাগ শেয়ার সূচক প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে, আর মার্কিন ডলার কিছুটা দুর্বল হয়ে ৯৮.৯৩ পয়েন্টে অবস্থান করেছে, যা রুপিকে আরও শক্তিশালী করেছে।










