পাহাড়, চা বাগান আর নির্জন উপত্যকা! সিকিমের এই দুই অফবিট জায়গা মিস করবেন না

Published:

Offbeat Sikkim

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ আর শহরের কোলাহল ভালো লাগছে না? পুজোর কয়েকটা দিন একটু নিরিবিলিতে কাটানো যায় এমন জায়গা খুঁজছেন? তাহলে আপনার জন্য রইল আজকের এই খবরটি। পাহাড়ে বেড়াতে ভালোবাসেন অথচ সিকিম (Offbeat Sikkim) যাবেন না, এমন পর্যটক খুঁজে পাওয়া কঠিন। বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্যে ভরপুর এই রাজ্যে দার্জিলিংয়ের মতোই পর্যটকদের আনাগোনা রয়েছে। তবে পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের বদলে এবার ঘুরে আসতে পারেন সিকিমের কিছু অফবিট ঠিকানায়। নির্জন পরিবেশ, সবুজ পাহাড় আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই জায়গাগুলিতে মিলবে অন্যরকম ভ্রমণের অভিজ্ঞতা।

রাভাংলা

মিয়ানাম ও টেন্ডং পাহাড়ের মাঝখানে অবস্থিত সিকিমের ছোট্ট শহর রাভাংলা । এখানেই রয়েছে রাজ্যের একমাত্র চা বাগান টেমি টি গার্ডেন। পাহাড়ের কোলে বিস্তৃত এই চা বাগানের সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এখানকার চায়ের স্বাদও বিশেষ আকর্ষণ। পাশাপাশি এখানে রয়েছে বিখ্যাত রালং মনাস্ট্রি। বৌদ্ধ সংস্কৃতি ও শান্ত পরিবেশের জন্য পরিচিত এই মঠের অপূর্ব বুদ্ধমূর্তি পর্যটকদের নজর কাড়ে। প্রকৃতির মাঝে নিরিবিলি সময় কাটাতে চাইলে রাভাংলা হতে পারে আদর্শ গন্তব্য।

জংগু ভ্যালি

সিকিমের আরেকটি অফবিট ঠিকানা জংগু ভ্যালি। রাজধানী গ্যাংটক থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই অঞ্চল মূলত লেপচা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির জন্য পরিচিত। জংগুর তিনভং এলাকায় গেলে লেপচাদের জীবনযাত্রা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি কাছ থেকে জানার সুযোগ পাবেন। এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশের পাশাপাশি আকর্ষণীয় জৈব কৃষিও পর্যটকদের নজর কাড়ে। ধান, বাজরা, এলাচ ও কমলালেবুর মতো নানা ফসল চাষ হয় এই অঞ্চলে। ইকো-ট্যুরিজমের জন্য পরিচিত জংগুতে থাকার জন্য রয়েছে হোমস্টে। পাহাড়ের নির্জন পরিবেশে স্থানীয় সংস্কৃতির স্বাদ নিতে চাইলে এই উপত্যকা ঘুরে দেখতে পারেন।

কীভাবে যাবেন?

রাওয়াংলা ও জংগু ভ্যালি যেতে প্রথমে ট্রেনে নিউ জলপাইগুড়ি পৌঁছতে হবে। সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে সেবক ও কালিম্পং হয়ে রাওয়াংলা যেতে পারেন। অন্যদিকে, জংগু যাওয়ার জন্য নিউ জলপাইগুড়ি থেকে সিংতাম হয়ে গাড়িতে যেতে হবে। এই যাত্রায় প্রায় ৬–৭ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। ব্যক্তিগত গাড়ির পাশাপাশি শেয়ার গাড়ির সুবিধাও পাওয়া যায়।

google button