সহেলি মিত্র, কলকাতা: অনেক তো হল সমুদ্র, আপনারও কি মনটা পাহাড় পাহাড় করছে? অফবিট জায়গায় যাবেন বলে ভাবলেও নতুন ঠিকানা পাচ্ছেন না? তাহলে ঘুরে আসতে পারেন উত্তরবঙ্গের বুকে লুকিয়ে থাকা এমন এক সুন্দর জায়গায় যেখানে গেলে মনে হবে ঠিক যেন কোনও। স্বপ্নের নগরীতে এসে হাজির হয়েছেন। পাহাড়, নদী আর সবুজ প্রকৃতির মাঝে কয়েকটা দিন নিরিবিলিতে কাটাতে চাইলে আপনার পরবর্তী গন্তব্য হতে পারে উত্তরবঙ্গের কালিম্পং জেলার রেল্লি খোলা (Relli Khola)। চলুন জায়গাটি সম্পর্কে বিশদে জেনে নেওয়া যাক।
দুদিনের ছুটিতে ঘুরে আসুন ‘রেল্লি খোলা’
কালিম্পং (Kalimpong) শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মনোরম অফবিট পর্যটনকেন্দ্রটি রেল্লি নদীর স্বচ্ছ জল, সবুজ পাহাড়, ঝুলন্ত সেতু এবং শান্ত পরিবেশের জন্য পর্যটকদের কাছে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে প্রকৃতির কোলে সময় কাটানোর জন্য এটি আদর্শ ঠিকানা।
কী কী দেখবেন?
রেল্লি খোলার অন্যতম আকর্ষণ পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা রেল্লি নদী। নদীর কলকল শব্দ, চারপাশের সবুজ পাহাড়, গাছপালা আর পাখির ডাক মনকে নিমেষে শান্ত করে দেয়। এখানে নদীর ধারে বসে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করা, পাহাড়ি পরিবেশে সময় কাটানো কিংবা ঝুলন্ত সেতুতে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার অভিজ্ঞতা ভ্রমণকে আরও স্মরণীয় করে তুলতে পারে। প্রকৃতিপ্রেমী, ফটোগ্রাফার এবং অফবিট গন্তব্য খুঁজছেন এমন পর্যটকদের জন্য রেল্লি খোলা বিশেষ আকর্ষণীয়।
আরও পড়ুনঃ মেঘে ঢাকা পাহাড়, সবুজ চা-বাগান ও ঝর্ণা! ছুটিতে ঘুরে আসুন ভালপারাই
রেল্লি খোলা ঘুরতে গেলে আশপাশের কয়েকটি দর্শনীয় স্থানও ভ্রমণসূচিতে রাখতে পারেন। দেলো হিল, দুর্পিন মনাস্ট্রি ও কালিম্পং শহরের পাশাপাশি সময় হাতে থাকলে লাভা, লোলেগাঁও, পেডং, সামথার ভ্যালি এবং নেওড়া ভ্যালি ন্যাশনাল পার্ক ঘুরে দেখা যেতে পারে।এখানে এলে কোথায় থাকবেন সেটা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। বিভিন্ন হোমস্টে ও নদীর ধারের কটেজে থাকার সুযোগ পাওয়া যায়। স্থানীয় আতিথেয়তা, ঘরোয়া খাবার এবং পাহাড়-নদীর মনোরম দৃশ্য এই থাকার অভিজ্ঞতাকে আরও উপভোগ্য করে তোলে।
কীভাবে যাবেন?
কলকাতা থেকে রেল্লি খোলা যেতে প্রথমে ট্রেনে নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) অথবা বিমানে বাগডোগরা পৌঁছতে হবে। সেখান থেকে গাড়িতে কালিম্পং হয়ে রেল্লি খোলা যাওয়া যায়। কালিম্পং শহর থেকে গাড়িতে আনুমানিক ৩০–৪৫ মিনিট সময় লাগতে পারে।










