অনন্যা সরকার, কলকাতা: কিছু মানুষের জীবনকাহিনী এতটাই অনুপ্রেরণাদায়ক (Inspirational Story) হয় যে, তাঁদের মৃত্যুর অনেক পরেও তা মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে থাকে। সম্প্রতি জনপ্রিয় অভিনেতা আর. মাধবনের (R. Madhavan) ক্ষেত্রেও এমনটাই ঘটেছে। তিনি তাঁর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে কেরালার কার্থায়ানী আম্মার গল্পটি শেয়ার করেছেন। ৯৬ বছর বয়সে সাক্ষরতা পরীক্ষায় ১০০-তে ৯৮ নম্বর পাওয়া কার্থায়ানী আম্মার নাম শিরোনামে উঠে এসেছিল কিছু বছর আগে। অভিনেতা তাঁর এই কৃতিত্ব উদযাপন করে একটি ভিডিও ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করেন। কার্থায়ানী আম্মা ২০২৩ সালে ১০১ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন। তাঁর সাক্ষরতার যাত্রাটি আমাদের অনুপ্রাণিত করে, যা তাঁর শেখার আগ্রহ ও সাক্ষর হয়ে ওঠার দৃঢ় সংকল্পকে তুলে ধরে।
আর. মাধবন সোশ্যাল মিডিয়ায় কার্থায়ানী আম্মা অনুপ্রেরণামূলক গল্প তুলে ধরেছেন
বলিউড অভিনেতা আর. মাধবন সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে কার্থায়ানী আম্মার এই অসাধারণ যাত্রার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। অভিনেতা জানান, কার্থায়ানী আম্মা জীবনের শেষ সীমায় এসে প্রমাণ করেছেন যে, শেখার কোনো বয়স হয় না। অভিনেতা তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে দেখানো হয়েছে কীভাবে কার্থায়ানী আম্মা ৯৬ বছর বয়সে সাক্ষরতা পরীক্ষা দিয়ে ১০০-এর মধ্যে ৯৮-এর মতো আকর্ষণীয় নম্বর পেয়েছেন। এই গল্পটি ২০১৮ সালের, যে সময় কার্থায়ানী আম্মা কেরালার অক্ষরালক্ষম সাক্ষরতা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
জীবনের বেশিরভাগটাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়া কাটানোর পর, তিনি নব্বই বছর বয়সে পড়া, লেখা এবং প্রাথমিক গণিত শিখবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। ১৯২২ সালে কেরালার আলাপ্পুঝা জেলার চেপ্পাদ গ্রামে জন্মগ্রহণকারী কার্থায়ানী আম্মা দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হয়ে ওঠেন। তাঁর প্রজন্মের অনেক নারীর মতো, শৈশবে তাঁরও স্কুলে গিয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ হয়নি।
আরও পড়ুন: ‘সরকার মন্দিরের সম্পত্তির মালিক নয়’ বিজয় গভর্মেন্টকে ঝটকা দিয়ে জানাল সুপ্রিম কোর্ট
পরিবর্তে, তিনি তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময়টাই কাজ করে এবং তাঁর ছয় সন্তানকে লালন-পালন করে কাটিয়ে দিয়েছেন। শোনা যায়, তিনি তাঁর পরিবারের ভরণপোষণের জন্য পরিচারিকা এবং রাস্তা ঝাড়ুদার হিসেবে কাজ করতেন। তবে তাঁর জীবন অন্যদিকে মোড় নেয় যখন তাঁর ৬০ বছর বয়সী মেয়ে একটি সাক্ষরতা কর্মসূচিতে ভর্তি হয়ে পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হন। মেয়েকে দেখে তাঁরও শিক্ষার প্রতি আগ্রহ পুনরায় জেগে ওঠে। মেয়ের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে কার্থায়ানী আম্মা নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর নাতি-নাতনি ও তাঁদের সন্তানেরা তাঁকে লেখা, পড়া এবং সাধারণ গণিত শিক্ষায় সাহায্য করত।
২০১৮ সালে, কার্থায়ানী আম্মা কেরালা রাজ্য সাক্ষরতা মিশন কর্তৃপক্ষ দ্বারা পরিচালিত একটি সাক্ষরতা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। ৪০ হাজারেরও বেশি প্রার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। ৯৬ বছর বয়সী কার্থায়ানী আম্মা সেই পরীক্ষায় ১০০-এর মধ্যে ৯৮ নম্বর পান। এরপর ২০১৯ সালে, তিনি কমনওয়েলথ অফ লার্নিং-এর শুভেচ্ছাদূত হিসেবেও নিযুক্ত হন এবং দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ‘নারী শক্তি’ সম্মানও লাভ করেন। কার্থায়ানী আম্মা ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে ১০১ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন। তিনি জীবিত না থাকলেও, তাঁর জীবনকাহিনী, অধ্যবসায় এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।










