হাজার হাজার গাছ বাঁচিয়ে রেখেছেন ‘অক্সিজেন বাবা’, রোজ বের হন ৫০০ লিটার জল নিয়ে

Published:

Oxygen Baba

অনন্যা সরকার, বারাণসী: রোজ সকালে বারাণসীর রাস্তায় দেখা যায় তাকে। বিশাল ৫০০ লিটারের একটা জলের ট্যাংক সঙ্গে নিয়ে রাস্তার পাশের গাছপালাগুলিতে সস্নেহে জল দিচ্ছেন। চাকরি বা ব্যবসা নয়, এই কাজ করে একটাকাও উপার্জন করেন না তিনি। করেন মনুষত্বের তাগিদে। সেই গাছপালাগুলোই তার প্রাণ, যেগুলোকে লাগিয়ে প্রায়ই ভুলে যায় মানুষ। ইনি হলেন গোপালজি, যাকে সবাই ভালবেসে “অক্সিজেন বাবা” (Oxygen Baba) বলে ডাকে। আসুন তার এই প্রকৃতি প্রেমের (Nature Lover) কাহিনীটি জেনে নেওয়া যাক। 

রাস্তার পাশের গাছগুলি “অক্সিজেন বাবা”-এর প্রাণ 

পেশায় কুম্ভকার ৫২ বছর বয়সী গোপালজি ভদোহীর একটি ছোট গ্রামে থাকেন। মাটির হাঁড়ি-কলসি বানিয়ে তিনি তাঁর স্ত্রী ও তিন সন্তানের ভরণপোষণ করেন। কিন্তু কাজের চাপ ও পারিবারিক দায়িত্বের মাঝেও প্রকৃতির সঙ্গে একটা আলাদাই আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন তিনি। গত ১২ বছর ধরে গোপালজি নিজের সময়, উপার্জন ও পরিশ্রম দিয়ে গাছপালাদের সেবা করে যাচ্ছেন। যখন তিনি দেখেন জলের অভাবে রাস্তার ধারে লাগানো গাছগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে, তখনই এগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এই উদ্যোগ নেন তিনি। “অক্সিজেন বাবা” বুঝেছিলেন অনেকেই গাছ লাগিয়ে সেগুলোর যত্ন নেওয়ার কথা ভুলে যায়। অবহেলা ও জলের অভাবে মরেই যায় গাছপালাগুলো। 

গোপালজি বিশ্বাস করেন, শুধু নতুন চারা পুঁতলেই হয় না, সেগুলোকে সঠিকভাবে পরিচর্যা করে বাঁচিয়েও রাখতে হয়। তাই প্রথম প্রথম একটা বালতি নিয়ে নেমে পড়তেন রাস্তায়। হাতে করে বয়ে নিয়ে এসেছে গাছগুলোতে ছড়িয়ে দিতেন। কিন্তু পরে তার মনে হয় এটা যথেষ্ট নয়। তাই নিজেই একটি ট্রলি তৈরি করেন। তারপর প্রতিদিন ৫০০ লিটারের একটি বিশাল জলের ট্যাঙ্ক নিয়ে বের হন এবং পথে যত গাছ দেখতে পান সবেতেই জল দেন। কখনও সরকারি কল থেকে, আবার কখনও কুয়ো থেকে সংগ্রহ করেন এই জল।

কিন্তু গোপালজির এই কাজ সহজ চোখে দেখেননি অনেকে। প্রথম প্রথম অনেকেই তাকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করতো। কেউ কেউ “পাগল” পর্যন্ত বলে, আবার কেউ কেউ তাকে জল নিতে বাধাও দেয়। তবুও গোপালজি প্রতিদিন সকালে একই উদ্যম নিয়ে রাস্তায় পাশে অবহেলায় নেতিয়ে পড়া গাছগুলির কাছে ফিরে আসেন। 

আরও পড়ুনঃ জালে ৩ কেজির রাজা ইলিশ, কত দামে বিক্রি হল শুনলে কপালে উঠবে চোখ

বছরের পর বছর ধরে একটাই ট্রলি টেনে টেনে ঘুরে বেড়াতে গিয়ে গোপালজির ট্রলিটি কমজোরী হয়ে পড়েছিল। তবে সমাজমাধ্যমে তাঁর গল্প ছড়িয়ে পড়ার পর পুরসভা থেকে তাকে একটি টোটো রিকশা উপহার দেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি এই প্রকৃতি সেবার কাজটি সহজেই করতে পারেন। গোপালজির মতো মানুষ সমাজের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় লোক দেখানো প্রকৃতি সেবা করে আদতে পরিবেশের কোনো উন্নতি হয় না। গাছ লাগানো যেমন আমাদের কর্তব্য, তেমনই সেগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা আরও বড় কাজ।

আরও Varanasi