অনন্যা সরকার, উত্তর ২৪ পরগনা: জুলাই মাস পড়তেই অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকা বাংলার মা-বোনেদের অ্যাকাউন্টে দেওয়া শুরু হয়েছে। তবে এই প্রকল্পের আবেদনের প্রক্রিয়া এখনো চলছে। ভেরিফিকেশন বা যাচাইকরণের জন্য আবেদনকারীদের বাড়ি বাড়ি পাঠানো হচ্ছে সরকারি কর্মীদের। কিন্তু এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াকে নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সম্প্রতি উপভোক্তাদের ক্ষোভের মুখে পড়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার আইসিডিএস কর্মীরা (ICDS)। তারা অভিযোগ জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশ মেনে ভেরিফিকেশনের কাজ করতে গিয়ে মানসিক ও শারীরিক হেনস্থার স্বীকার হচ্ছেন তারা। নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন এই কর্মীরা।
গাইঘাটার আইসিডিএস কর্মীদের মারধর
রবিবার গাইঘাটা থানায় অভিযোগ জানাতে আসেন অন্নপূর্ণা যোজনা ভেরিফিকেশনের দায়িত্বে থাকা আইসিডিএস কর্মীরা। তারা জানান, উপভোক্তাদের বাড়ি যাচাই করনের কাজ করতে গিয়ে লাগাতার হেনস্থা ও শারীরিক নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন। এমনকি তাদের আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখানোও হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এই সরকারি কর্মীরা। সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে যান আইসিডিএস কর্মী সুলতা সরকার। পুলিশ তাকে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসার জন্য ঠাকুরনগর হাসপাতালে নিয়ে যায়। ওই মহিলার সহকর্মীরা জানান আগের দিন তিনিও শারীরিক নিগ্রহের শিকার হয়েছেন।
আক্রান্তদের দাবি, যত দ্রুত সম্ভব অভিযুক্তদের শনাক্ত করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ভেরিফিকেশনে যাওয়ার সময় পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা দিতে হবে তাদের। প্রশাসন যদি তাদের কথা না শোনেন তাহলে আগামী মঙ্গলবার থেকে ফুলসরা গ্রাম পঞ্চায়েত অঞ্চলে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করবেন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ওই বিক্ষুব্ধ আইসিডিএস কর্মীরা।
গত ১ জুলাই ১ কোটি ৯ লক্ষেরও বেশি মহিলার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০ টাকা পাঠানো হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মহিলারা অভিযোগ করছেন, তাদের অ্যাকাউন্টে এখনও টাকা ঢোকেনি। অনেকের আবেদনপত্র বাতিল করা হয়েছে। সময় মতো আর্থিক সাহায্য না পাওয়া ও ফর্ম বাতিল হওয়ার জন্য উপভোক্তারা সরাসরি ভেরিফিকেশন করতে আসা সরকারি কর্মীদের ওপরই তাদের ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। এই কারণে আইসিডিএস কর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেছেন। প্রশাসন কত তাড়াতাড়ি এই জটিলতা কাটাতে পারে, সেটাই এখন দেখার।










