সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গোটা বিশ্বজুড়ে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে (Semiconductor Industry) নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে বিরাট পদক্ষেপ নিল ভারত। এবার দেশে তৈরি সেমিকন্ডাক্টর চিপ শুধুমাত্র দেশের শিল্পে নয়, বরং বিদেশেও রফতানি করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে গুজরাটের সানন্দে স্থাপিত নতুন সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন কেন্দ্র থেকে তৈরি চিপ ভবিষ্যতে জাপান, আমেরিকা বা ইউরোপের মতো বিভিন্ন দেশে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সানন্দ থেকে বিশ্ববাজারে যাবে ভারতীয় চিপ
গুজরাটের সানন্দে তৈরি হওয়া CG Semi Outsourced Semiconductor Assembly and Test ইউনিটের উদ্বোধনের পর কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, এই কারখানায় উৎপাদিত সেমিকন্ডাক্টর চিপ বিশেষ করে অটোমোবাইল শিল্প, তথ্য প্রযুক্তি বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে। আর এটি শুধুমাত্র দেশীয় চাহিদা পূরণ করবে না, বরং আন্তর্জাতিক বাজারেও রফতানি করা হবে। জাপান, যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের মতো বিভিন্ন সংস্থা ভারতীয় চিপ ব্যবহারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইতিমধ্যেই।
এদিকে নতুন এই উৎপাদন কেন্দ্র থেকে তৈরি সেমিকন্ডাক্টর চিপ গাড়ি, স্কুটার, শিল্প যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন আইটি ডিভাইসে ব্যবহার করা হবে। যার ফলে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি বিদেশি প্রযুক্তি সংস্থার উপরেও নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমবে। এমনকি একই সাথে ভারতের প্রযুক্তি শিল্পের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন, কয়েক বছর আগেও ভারতে বড় আকারে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প গড়ে তোলার বিষয় অনেকের কাছে অসম্ভব বলে মনে হত। কিন্তু ধারাবাহিক নীতির বিনিয়োগ আর পরিকাঠামো উন্নয়নের ফলে সেই লক্ষ্য এখন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে।
আরও পড়ুন: গাড়িতে নিরাপত্তারক্ষীদের ঝোলা নিয়ে রিপোর্ট পাঠালেন অভিষেক, আরও নথি চাইতে পারে পুলিশ
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীও সানন্দের এই প্রকল্পকে ভারতের প্রযুক্তি যাত্রায় নতুন মাইলফলক বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, বিশ্বের সকল প্রযুক্তি কেন্দ্রগুলি কখনও একটি মাত্র কারখানার উপর নির্ভর করে গড়ে ওঠেনি। বরং গবেষণা, শিল্প এবং প্রযুক্তি সংস্থার সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম তৈরি করেছে। আর এবার সেই পথেই এগোচ্ছে গুজরাটের সানন্দ। অল্প সময়ের মধ্যেই এখানে একাধিক সেমিকন্ডাক্টর সংস্থা উৎপাদন শুরু করেছে, যা ভবিষ্যতে ভারতের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি খাতে পরিণত হতে পারে।










