অনন্যা সরকার, বীরভূম: সোনার গয়না (Gold Jewellery) বা কোনো মূল্যবান সম্পত্তি – নিজের বাড়িতে রাখতে সাহস করেন না অনেকেই। তার বদলে ব্যাংকের লকার (Bank Locker) অনেক বেশি নিরাপদ। চুরি-ডাকাতির ভয় থাকে না। আবার কখনো ঋণ নেওয়ার সময়ও নিশ্চিন্তে ব্যাংকে সোনা গচ্ছিত রাখেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু নিশ্চিন্ত আর থাকা যাচ্ছে না। কারণ চোর, ডাকাতের হাত থেকে বাঁচাতে পারলেও ব্যাংকের কর্মীদের হাতেই নিরাপদ নয় আপনার ধনসম্পদ (Bank Locker Fraud)। সম্প্রতি লকারের আসল সোনার গয়নার বদলে নকল সোনা রাখার অভিযোগ উঠেছে রামপুরহাটের এক বেসরকারি ব্যাংকের (Private Bank) শাখায়। জানা গেছে এই অপরাধের পিছনে রয়েছেন স্বয়ং ব্যাংকের ম্যানেজারই (Bank Manager)। শুক্রবার রাতে পুলিশ গ্রেফতার করেছে ব্যাংক ম্যানেজার অনল সাহাকে। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা জেলায়।
ব্যাংক ম্যানেজারের ষড়যন্ত্রেই বদলে গেছে সোনা
আদালত ও পুলিশের তরফে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে শুরু হয় এই কান্ড। সেসময় বেশকিছু গ্রাহক ব্যাংকে সোনার গয়না জমা রেখে ঋণ নিয়েছিলেন। তখন রামপুরহাটের ওই ব্রাঞ্চের ম্যানেজার ছিলেন মালদহের ইংলিশবাজার সদরঘাটের বাসিন্দা অনল সাহা। সুরক্ষার জন্য গচ্ছিত গয়নাগুলিকে নির্দিষ্ট লকারে রাখার নিয়ম রয়েছে। সেইমতো কাজ হয়। কিন্তু বেশকিছু গ্রাহক যখন পরে তাদের ঋণ পরিশোধ করে গয়না ফেরত নিতে আসেন, তখন তারা দেখেন আসলের বদলে তাদের নকল সোনা দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে নালিশ জানায়। এরপরই ব্যাংকের তরফে এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয় অভ্যন্তরীণ তদন্ত।
ইন্টারনাল অডিতে ধরা পড়ে, মোট ৯ জন গ্রাহকের সোনার গয়না লকার থেকে বের করে সুকৌশলে সেখানে রেখে দেওয়া হয়েছে নকল সোনা। এছাড়াও অভ্যন্তরীণ তদন্ত থেকে জানা যায়, কড়া সুরক্ষা ভেঙে গয়না বদলের এই গুরুতর অপরাধটি সংঘটিত করতে গয়নার মূল্য নির্ধারণকারী অফিসারের সাথে হাত মিলিয়েছিলেন খোদ ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজার। এরপর ২০২৪ সালের ২৬ জুলাই ব্যাংকের এরিয়া ম্যানেজার রাজেশ ঘোষ লকার জালিয়াতির অকাট্য প্রমাণ দেখিয়ে অনল সাহার বিরুদ্ধে রামপুরহাট থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ জানান।
এই ঘটনায় চাকরি থেকে বহিষ্কৃত করা হয় অনল সাহাকে। তারপর পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে গা ঢাকা দেন তিনি। দু’বছর লুকিয়ে থাকার পর অবশেষে মালদহ থেকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে তাকে। তবে এই মামলার আরেক অভিযুক্ত, সোনার মূল্য নির্ধারণকারী আধিকারিক ঘটনার কিছুদিন পরেই মারা যান বলে জানিয়েছে পুলিশ। অনল সাহার বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি, বিশ্বাসভঙ্গ ও অপরাধমূলক চক্রান্ত সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। তাকে শনিবার রামপুরহাটের মহকুমা আদালতে তোলা হয়। সরকারি আইনজীবী সৈকত হাটি জানিয়েছেন, মামলার গুরুত্ব ও গয়না উদ্ধারের প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে আদালত অনল সাহার ৭ দিনের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেছেন। যদিও অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী জাহির রাইহান এই অভিযোগ মানতে নারাজ, তিনি বলেন, সন্দেহের বশে তার মক্কেলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আরও পড়ুনঃ দিঘা, মন্দারমণিতে নামতে পারবেন না সমুদ্রে! প্রবল দুর্যোগের আশঙ্কায় জারি সতর্কতা
এই ঘটনায় ওই বেসরকারি ব্যাংকের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। পুলিশ এখন ধৃত ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানার চেষ্টা করছে, কোথায় চুরি করা সোনার গয়নাগুলি রাখা হয়েছে বা কার কাছে বিক্রি করা হয়েছে। এই অপরাধে ব্যাংকের অন্য কর্মী বা বাইরের কোনো অসাধু সোনা ব্যবসায়ী জড়িত আছেন কিনা, সে বিষয়েও তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাটির সম্বন্ধে জানার পর থেকে ব্যাংকের গ্রাহক, বিশেষ করে যারা লকারে সোনা বা মূল্যবান সম্পত্তি জমা রেখেছেন, তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।










