চন্দ্রিমার পদত্যাগে বাড়ল বিপদ? নিজেদের আসল তৃণমূল প্রমাণে চাপ পড়তে পারে কালীঘাট

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: নির্বাচনে ভরাডুবির পর দু ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বে রয়েছে কালীঘাট তৃণমূল। অন্যদিকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন তৃণমূলে নাম লিখিয়েছেন বিদ্রোহীরা। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, মমতার দীর্ঘদিনের ছায়া সঙ্গী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও ইতিমধ্যেই তৃণমূলের সমস্ত পদ ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন। যোগ দিয়েছেন ঋতব্রতর বৈঠকেও! এবার সেটাই কি নির্বাচন কমিশনের কাছে কালীঘাট তৃণমূলকে বিপাকে ফেলবে?

নিজেদের আসল তৃণমূল প্রমাণ করতে পারবে তো কালীঘাট?

আগামী 6 জুলাই, সোমবার বিকেলের মধ্যেই কে আসল তৃণমূল আর কে নকল তৃণমূল তা প্রমাণ করতে নির্বাচন কমিশনের কাছে তথ্য জমা দিতে হবে দুপক্ষকে। আর তার ঠিক আগেই তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সহ অন্যান্য পদ ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। আর এমন ঘটনা নির্বাচন কমিশনের সামনে বিড়ম্বনায় ফেলতে পারে মমতার তৃণমূলকে! এ প্রসঙ্গে অবশ্য ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, কেউ আর প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে থাকতে চাইছেন না।

ঋতব্রত শিবিরের আরও কয়েকজন বিধায়ক বলেছেন, 22 জুন তাঁদের কমিটি তৈরি হয়ে গিয়েছে। সেই কমিটি ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছে রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা তাঁদের দলে কোনও ভাঙন নেই। বরং বিপরীত শিবির ছেড়ে একে একে অন্যান্যরাও তাঁদের দলে যোগ দিচ্ছেন। প্রায় প্রতিদিনই একটু একটু করে ভাঙছে কালীঘাট তৃণমূল! দলের সভানেত্রী বেরিয়ে গিয়েছেন। সায়নী ঘোষ যুব সংগঠনের দায়িত্ব থাকলেও তিনি এখন বিদ্রোহী। ফলে যে দলে কমিটি নেই সেই দলকে কমিশন কি গুরুত্ব দেবে?

অবশ্যই পড়ুন: অভিষেকের দিনই বাজে কাজ করে ফেললেন বৈভব! আঘাত করলেন দর্শককে

ঋতব্রত শিবিরের কথায়, কালীঘাট তৃণমূলের ক্রমাগত ভাঙনের কারণে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের কাছে ধাক্কা খেতে হবে মমতা বাহিনীকে! যদিও কালীঘাট তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বদের বক্তব্য, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যর চলে যাওয়া তাঁদের জন্য আইনি পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডেরেক ও ব্রায়েন দলের তরফে কমিশনের কাছে প্রতিনিধিত্ব করবেন। এদিকে দলের বলিষ্ঠ নেতা শোভন দেব চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কেউ চলে গেলে দলের কিছু যাবে আসবে না। দেশে আইন-কানুন রয়েছে সেই সব মেনেই কমিশনের কাছে আবেদন করা হবে। গতকাল লাইভ করে এমন কথায় জানিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।