সৌভিক মুখার্জী, বারুইপুর: নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তোলপাড় দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর (Baruipur Rape Case)। রবিবার সকালে পুকুর থেকে উদ্ধার হয় ওই নাবালিকার মৃতদেহ। শনিবার বিকাল থেকেই নিখোঁজ ছিল সে। খাবার কিনতে বেড়িয়ে বাড়ি ফেরেনি। শেষমেষ আজ সকালে উদ্ধার হয় দেহ। অভিযোগ, ধর্ষণ করে নাবালিকাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় উত্তপ্ত বারুইপুর। উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়েছে একজনের। এখনও অধরা ৩ অভিযুক্ত।
বারুইপুরে গণধর্ষণ কাণ্ডে নয়া মোড়
নাবালিকার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বিকাল থেকেই নিখোঁজ সে। খাবার কেনার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল বছর ১১-র ওই নাবালিকা। তারপর বাড়ি ফেরেনি। অভিযোগ ওঠে, চার যুবক তাঁকে নাকি তুলে নিয়ে যায়। এমতাবস্থায় রাতভর তল্লাশির পর রবিবার সকালে এক পুকুর থেকে উদ্ধার হয় নাবালিকার মৃতদেহ। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, তাঁকে শ্বাসরোধ করেই খুন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এক অভিযুক্তকে ধরে ফেলেছে পুলিশ। বাকিদের খোঁজে চালানো হচ্ছে তল্লাশি।
তবে এই ঘটনায় চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা বারুইপুরে। ওই নির্যাতিতার দেহ আটকে রেখেই বিক্ষোভ দেখায় আমজনতা। এমনকি পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মী আহত হন। তবে সবথেকে বড় ব্যাপার, উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়েছে একজনের। মৃতের নাম ইন্দ্রজিৎ তাঁতি। বয়স ২৬। সে বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহ থাকায় তাঁকে ধরে গণপিটুনি দিতে থাকে স্থানীয়রা। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
আরও পড়ুন: বিকেলে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টি, কেমন থাকবে আগামীকালের আবহাওয়া?
স্থানীয়দের আরও দাবি, এই ধর্ষণ এবং হত্যাকাণ্ডের পিছনে আরও চার থেকে পাঁচজন জড়িত রয়েছে, এবং তাদের মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে কুলপি রোডে মৃতদেহ আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে উত্তেজিত জনতা। এমনকি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে পুলিশের উপরেই হামলা করা হয়। অভিযোগ, পুলিশের গাফিলতিতেই এই ঘটনা ঘটেছে। ইতিমধ্যেই নির্যাতিতা নাবালিকার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, এবং মঙ্গলবার পরিবারের সদস্যদের ভবানীভবনে যেতেও বলেছেন তিনি। পরিবারের সমস্ত দাবি শোনার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।










