অনন্যা সরকার,কলকাতা: গরমাগরম ডিমের ওমলেট, টোস্ট থেকে শুরু করে চপ, বেগুনি কিংবা ঝটপট বানিয়ে ফেলা চাউমিন – সল্টলেকের অফিসপাড়ার ফুটপাতে হরেকরকমের মুখরোচক ও লোভনীয় খাবার মেলে। আর এই সবকিছুই পরিবেশন করা হয় একদম টাটকা ও গরম অবস্থায়। তবে এই চিরচেনা দৃশ্য এবার বদল যেতে চলেছে। এখন থেকে সল্টলেকের আইটি হাব (IT Hub) এলাকায় আর হাতে গরম খাবার মিলবে না। কারণ ফুটপাতে গ্যাস স্টোভ ব্যবহার করে রান্না করার ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)।
অগ্নিকাণ্ড কমাতে হাইকোর্টের বড় নির্দেশ
সাম্প্রতিককালে কলকাতা জুড়ে ঘটে গেছে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা, যার মধ্যে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলের অগ্নিকাণ্ড চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে অগ্নি-সুরক্ষা বিধি লঙ্ঘন করলে কি ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে। তাই এই ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে, নবদিগন্ত ইন্ডাস্ট্রিয়াল টাউনশিপ ভেন্ডিং কমিটি (NDITA) সেক্টর ৫ অঞ্চলের রাস্তার ধারের খাবারের দোকানগুলিতে এলপিজি (LPG) ব্যবহার করে রান্না করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
সম্প্রতি একটি বৈঠকের পর, ‘পশ্চিমবঙ্গ আরবান স্ট্রিট ভেন্ডিং রুলস, ২০১৮’-এর ১৪(৩) ধারা ও সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলোর কথা উল্লেখ করে কমিটি এই দোকানগুলিতে গ্যাস ব্যবহার করে রান্নার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া, প্লাস্টিক বা ত্রিপল জাতীয় সামগ্রীও ব্যবহার না করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, এনডিআইটিএ কর্তৃপক্ষ রাস্তার ওপর বাসনপত্র ধোয়ার মতো কাজগুলোর ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
আরও পড়ুন: উত্তরের জঙ্গলে স্পেশাল ট্যুর প্যাকেজ চালু করল NBSTC, কী কী চমক থাকছে?
রুটি রুজি হারানোর ভয়ে স্থানীয় হকারদের একটি অংশ এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে। সম্প্রতি প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভিথালরাও ঘুগের নেতৃত্বাধীন একটি ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। আবেদনকারীদের যুক্তি হল, গ্যাস ব্যবহারের সময় তাঁরা জনস্বাস্থ্য ও অগ্নি-সুরক্ষা সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম মেনেই চলেন। তাঁদের দাবি, ক্রেতারা মূলত রান্না করা গরম খাবারের সন্ধানেই তাঁদের দোকানে ভিড় করেন। তাই গ্যাস ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলে তাঁদের জীবিকা সংকটের মুখে পড়বে।
এর জবাবে রাজ্যের প্রতিনিধিত্বকারী অ্যাডভোকেট জেনারেল পাল্টা যুক্তি দেন যে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলি সরকারের কাছে গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর দাবি, রাস্তার ওপর গ্যাস ব্যবহার করাটা বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি করছে, কারণ রাস্তার ধারের প্রায় প্রতিটি দোকানেই ছাউনি হিসেবে ত্রিপল ব্যবহার করা হয়, যা অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ ও দ্রুত আগুন ছড়িয়ে দিতে সক্ষম।
আরও পড়ুন: উপনির্বাচনের আগেই নন্দীগ্রামে IC বদল করল শুভেন্দুর সরকার, নতুন দায়িত্বে কে?
এছাড়া, রাস্তার ধারে রান্নার সরঞ্জাম ও অন্যান্য জিনিসপত্র জমিয়ে রাখার ফলে রাস্তার একটা বড় অংশ অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছে। রাজ্যের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে যে, হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা সত্ত্বেও, তাঁরা ফুটপাত ছাড়তে চাইছেন না। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর এবং কমিটির সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে, প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ সল্টলেকের ফুটপাতে গ্যাস স্টোভ ব্যবহার করে রান্না করার ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।










