গাড়িতে নিরাপত্তারক্ষীদের ঝোলা নিয়ে রিপোর্ট পাঠালেন অভিষেক, আরও নথি চাইতে পারে পুলিশ

Published:

Abhishek Banerjee

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: অভিষেকের (Abhishek Banerjee) গাড়িতে বাদুড় ঝোলা ঝুলছিল তাঁর নিরাপত্তা রক্ষীরা! এই ঘটনা যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ, বিপজ্জনক এবং ট্র্যাফিক আইনের পরিপন্থী, এমনটা দাবি তুলেই কালীঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন রাজীব সরকার নামের এক ব্যক্তি। আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তৃণমূল সাংসদের কাছ থেকে বেশ কিছু নথি চেয়ে পাঠায় পুলিশ। তবে রবিবার তাঁর প্রতিনিধিরা থানায় গিয়ে সেই নথি জমা দিয়ে আসেন বলেই খবর। কিন্তু জানা যায়, যে সমস্ত তথ্য যাওয়া হয়েছিল তার সবকিছু দেওয়া হয়নি। যে কারণে আবারও নোটিশ পাঠানো হতে পারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

থানায় নোটিশ জমা দিলেন অভিষেক

মোটরযান আইন লঙ্ঘনের মামলায় কালিঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে। তাঁর গাড়ির দরজার পাশ থেকে নিরাপত্তা রক্ষীদের বিপজ্জনকভাবে ঝুলন্ত দেখা যায়। এতে তাঁদের নিরাপত্তার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনও নিরাপত্তার হুমকির মুখে পড়তে পারে, এমনটাই দাবি করা হয়। এমনকি পথ দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও থেকে যায়। এই ঘটনায় মোটর ভেহিকেলস অ্যাক্ট ১৯৮৮-র একাধিক বিধি লঙ্ঘন হয়েছে বলেই অভিযোগ রাজীব সরকারের। এমনকি মোটর ভেহিকেল আইন ১৯৮৮-র ১২৩ এবং ১৮৪ ধারার উল্লেখ করা হয়। তাঁর দাবি ছিল, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সেক্ষেত্রে আইন মানা হচ্ছে না। এটি গ্রহণযোগ্য নয়।

তবে এই অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, ওই গাড়িটি কবে কেনা হয়েছে, গাড়ির ড্রাইভারের নাম কী, ড্রাইভারের ঠিকানা কী এবং যোগাযোগ নাম্বার কী আছে। পাশাপাশি যাদেরকে গাড়ির দু’পাশে বাদুড় ঝোলা ঝুলতে দেখা গিয়েছিল তাঁদের পরিচয় জানতে চাওয়া হয়েছিল। এমনকি অভিষেকের ওই নিরাপত্তা রক্ষীরা বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তাঁদের পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রশিক্ষণ রয়েছে কিনা তাও বিস্তারিত জানতে চেয়ে পাঠায় পুলিশ।

আরও পড়ুন: ট্রেন বা প্ল্যাটফর্মে নোংরা করলেই ফাইন, পূর্ব রেলে শুরু নয়া অভিযান

সেই মতোই আজ কালীঘাট থানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিনিধিরা তথ্য জমা দিয়ে আসেন। কিন্তু পুলিশের অভিযোগ, যে সমস্ত তথ্য যাওয়া হয়েছিল তার সবকিছু দেওয়া হয়নি। সেই কারণে তৃণমূল সাংসদকে ফের নোটিশ পাঠানো হতে পারে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের। যদিও শনিবারের মধ্যে অভিষেককে তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সময়সীমার মধ্যে তথ্য তো একেই পাঠাতে পারেননি সাংসদ, তার উপর আবার অসংগতি! এখন দেখার, এ বিষয়ে প্রশাসন কোন সিদ্ধান্তের পথে এগোয়।