অনন্যা সরকার, কলকাতা: সাফল্যের পথ কখনও সহজ হয় না, অনেক চড়াই-উতরাই, ব্যর্থতা ও প্রতিবন্ধকতা আসে। এই সবকিছুকে নিজের শক্তি বানিয়ে যারা এগিয়ে যেতে পারেন, তারাই উঠতে পারেন সাফল্যের সোপানে। জীবনের দীর্ঘ একাকীত্ব আর কঠোর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত সাফল্যের আনন্দই আলাদা। এমনই এক অনুপ্রেরণাদায়ক যাত্রার নায়ক হলেন সাগ্নিক চক্রবর্তী (Success Story of Sagnik Chakraborty)। নানা প্রতিকূলতা, ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের টানাপোড়েন জয় করে, শেষ পর্যন্ত তিনি ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (UPSC) মাধ্যমে সহকারী অধ্যাপক (Assistant Professor) পদের জন্য সুপারিশ পেয়েছেন। আসুন তাঁর এই সাফল্যের কাহিনীটি জেনে নেওয়া যাক।
বারংবারের ব্যর্থতাকে শক্তি করে সাফল্যের জয়যাত্রা সাগ্নিকের
সাগ্নিক চক্রবর্তী তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলে তাঁর যাত্রা সম্পর্কে এক দীর্ঘ আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করেছেন। তিনি জানান, এই যাত্রার শুরু ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। সাগ্নিকের জীবনে নেমে আসে কঠোর বাস্তবতার কালো মেঘ। বারবার হোঁচট খেতে থাকেন তিনি। এরপর ২০২৫ সালের জুলাই মাসে, যখন তাঁর জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটির হাতও আলগা হয়ে যায় এবং চারপাশ থেকে ধেয়ে আসে বিদ্রুপ – “তোমার জীবনে চাকরি হবে না, ওরকম কতই ইন্টারভিউ তো দিয়েই থাক”। ঠিক সেই সময়ই ইউপিএসসি (UPSC) থেকে ইন্টারভিউয়ের সময়সূচি ঘোষণা করা হয়। সাগ্নিক নিজেকে অসহায় প্রমাণ করার পথ নয়, বেছে নেন সংগ্রামের কঠিন রাস্তা। এরই মাঝে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কর্মক্ষেত্রেও আসে বড় এক আঘাত। তবে হাল ছাড়েননি সাগ্নিক। কাদা ছোড়াছুড়িতে লিপ্ত না হয়ে, নিজেকে আরও দক্ষ করে তোলার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠা, মা ও ভগবানকে ডেকে বই নিয়ে বসা, সারাদিন ক্লাস নেওয়া আর নিজের সঙ্গে লড়াই করা – এটাই ছিল তাঁর নিত্যদিনের রুটিন। কখনও কখনও কঠিন বাস্তবকে উপেক্ষা করে পাহাড়ে গিয়ে দু’দণ্ড শান্তি খুঁজতেন। তবে সবসময় পাশে পেয়েছেন তাঁর পরিবার ও হাতে গোনা কয়েকজন নিঃস্বার্থ মানুষকে, যারা কোনো বিচার-বিবেচনা না করেই নীরবে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন।
আরও পড়ুন: গ্রামের ছেলে বলে শুনেছেন প্রচুর বিদ্রুপ, UPSC ক্র্যাক করে IAS হলেন বাইক মিস্ত্রীর ছেলে
অবশেষে এল ২০২৬ সালের ৮ এপ্রিল। নয়াদিল্লির ঢোলপুর হাউসে ইউপিএসসি (UPSC) দপ্তরে সাগ্নিক দিলেন দীর্ঘ এক ইন্টারভিউ। বারবার ব্যর্থতার গ্লানি সহ্য করতে করতে তিনি এতটাই ক্লান্ত ছিলেন যে, বাইরে বেরিয়ে ইউপিএসসি-এর সেই বিখ্যাত লাল বোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার মানসিক অবস্থাও তাঁর ছিল না। ছোটবেলা থেকেই ‘ইতিহাস’ ছাড়া অন্য কোনো ‘বিকল্প পথ’ তিনি রাখেননি। তাই ট্রেনে ফেরার পথে তিনি ভাবছিলেন, যদি এবারও ব্যর্থ হন, তবে আবার চেষ্টা করবেন।
কিন্তু এবারও ভাগ্য তাঁর সহায় হল। গত ১৭ এপ্রিল বিকেলে ফোন কল ও ইমেইলের মাধ্যমে পেলেন সেই বার্তা, যা শোনার জন্য এতদিন সংগ্রাম করে গেছেন। তাঁকে জানানো হয়, ইউপিএসসি তাঁর নাম সুপারিশ করেছে। আজ সাগ্নিক চান, তাঁর মতোই প্রতিটি মানুষের জীবনের ব্যর্থতার অন্ধকার রাতগুলোর শেষে যেন এক সফল ভোর আসুক। সাগ্নিক চক্রবর্তী ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যেতে চান, মাটির কাছাকাছি থেকে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে চান সর্বত্র।










