অনন্যা সরকার, প্রবল ইচ্ছাশক্তির জোরে মানুষ সবকিছু জয় করতে পারে। কোনও প্রতিবন্ধকতাই তখন সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। ক্ষিতিজ গুরভেলের সাফল্যের কাহিনীটিও (UPSC Success Story of IAS Kshitij Gurbhele) অনেকটা এরকম। তাঁর এই সাফল্য কেবল ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি একটি অদম্য ইচ্ছাশক্তির জয়ের নিদর্শন, যা দীর্ঘদিন ধরেই মনের মধ্যে লালন করছিলেন তিনি। আইআইটি রুরকি (IIT Roorkee) থেকে স্নাতক হওয়ার পর, তিনি উচ্চ বেতনের চাকরির পরিবর্তে সিভিল সার্ভিসে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর বাবা সবসময়ই চাইতেন তিনি জীবনে বড় কিছু অর্জন করুন। অবশেষে, ক্ষিতিজ তাঁর প্রথম প্রচেষ্টাতেই ইউপিএসসি পরীক্ষায় সফল হয়ে একজন আইএএস অফিসার হন।
উচ্চ বেতনের চাকরি ছেড়ে UPSC-এর প্রস্তুতি
প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ক্ষিতিজ জেইই (JEE) পাস করে আইআইটি রুরকিতে ভর্তি হন। স্নাতক হওয়ার পর ক্যাম্পাস প্লেসমেন্টের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও, তিনি সিভিল সার্ভিসের পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যদিও তাঁর পরিবার তাঁর সিদ্ধান্তে প্রথমে অবাক হয়েছিল, কিন্তু ক্ষিতিজের লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট। তিনি মাত্র দু’বার প্রচেষ্টা করবেন বলে ঠিক করেন।
তিনি কলেজে থাকাকালীনই ইউপিএসসির প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিলেন। কোনো নামিদামি কোচিংয়ের সাহায্য না নিয়েই তিনি নিজের তৈরি করা একটি সুসংগঠিত সময়সূচী অনুসরণ করে অনলাইন ও ইন্টারনেটে উপলব্ধ বিভিন্ন মেটোরিয়ালের বুদ্ধিদীপ্ত ব্যবহার করেন। আর তার ফলাফলও ছিল অসাধারণ। ক্ষিতিজ তাঁর প্রথম প্রচেষ্টাতেই সর্বভারতীয় র্যাঙ্ক (AIR) ৪৪১ অর্জন করেন, যা তাঁর আইএএস অফিসার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করে।
আরও পড়ুন: গ্রামের ছেলে বলে শুনেছেন প্রচুর বিদ্রুপ, UPSC ক্র্যাক করে IAS হলেন বাইক মিস্ত্রীর ছেলে
যেদিন ফলাফল ঘোষণা করা হয়, সেদিন তিনি তাঁর বাবাকে চমকে দেওয়ার জন্য তাঁর অফিসে গিয়েছিলেন। তাঁর বাবা যখন সহকর্মীদের সাথে দুপুরের খাওয়া সারছেন, তখন ক্ষিতিজ মজা করে মন্তব্য করেন, “একজন সিনিয়র অফিসার এসেছেন, আপনার উঠে দাঁড়ানো উচিত।” ছেলের সাফল্যের খবর শুনে তাঁর বাবা আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন, গর্বে ভরে ওঠে তাঁর বুক। ক্ষিতিজ গুরভেলের মতে, ইউপিএসসির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া শুধুই কঠোর পরিশ্রমের বিষয় নয়, এটি সঠিক মানসিকতা রাখার বিষয়ও বটে। উপযুক্ত কৌশল, অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাসই হল সাফল্যের শিখরে পৌঁছানোর চাবিকাঠি।










