প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দোরগোড়ায় রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026)। প্রথম দফার ভোট শুরু হতে আর বাকি মাত্র ৪ দিন। তাই শেষমুহূর্তে জনসংযোগ বৃদ্ধিতে পুরোপুরি মনোযোগ দিয়েছে প্রার্থীরা। এমতাবস্থায় শাসকদল তৃণমূল (Trinamool Congress) ছেড়ে সিপিআইএমে যোগদান করলেন শতাধিক ব্যক্তি। ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদর ডোমকলে (Domkal)। শুধু তাই নয় দলবদলের পাশাপাশি তৃণমূলের পার্টি অফিস দখল করে নিল সিপিআইএম! তুমুল চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হল এলাকা জুড়ে।
লাল পতাকা ধরল ৪০০টি পরিবার
রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার মুর্শিদাবাদের ডোমকল পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে রাজনীতির আখড়ায় এক বিরাট বদল ঘটল। তৃণমূলের প্রাক্তন ওয়ার্ড সভাপতি এনামুল মালিথা ওরফে বাবুর নেতৃত্বে প্রায় ৪০০টি পরিবার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে লাল পতাকা হাতে তুলে নিলেন। এখানেই শেষ নয়, এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় রীতিমত দখল করে নিল সিপিএম। ভোটের আবহে আচমকা এই দলবদল নিয়ে সকলের দাবি, দীর্ঘদিন শাসকদলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তাঁরা উপযুক্ত সম্মান পাচ্ছিলেন না। তাই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
এনামুলকে আগেই পদ থেকে অপসারণ করা হয়!
সামনেই ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন, তাই শেষ মুহূর্তে ভোটের প্রচারে মন দিয়েছে প্রার্থীরা। কিন্তু ডোমকল পুরসভায় শতাধিক পরিবারের শাসকদল ছেড়ে দেওয়া নিয়ে কপালে রীতিমত চিন্তার ভাঁজ পড়ল অনেকের। গতকাল, শুক্রবার বিকেলে ডোমকলের সিপিআইএম প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ওরফে রানার উপস্থিতিতে এক সভার আয়োজন করা হয়েছিল। আর সেখানেই শতাধিক কর্মী-সমর্থক তৃণমূলের সঙ্গ ত্যাগের ঘোষণা করেন। এদিকে এই ঘটনার জেরে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের সংগঠন কার্যত নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছে। যদিও তৃণমূলের দাবি, এনামুলকে নাকি অনেক আগেই পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। তাই সংগঠনের তেমন কোনও আঁচড় লাগার সম্ভাবনা নেই।
পার্টি অফিস দখলের দাবি উড়িয়ে দিল শাসকদল
ডোমকল শহর তৃণমূল সভাপতি কামরুজ্জামান শেখ জানিয়েছেন, ‘‘এনামুলকে অনেক আগেই দুর্নীতি আর দলবিরোধী কাজের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। আর যে অফিসটি নিয়ে এত হইচই, সেটি আসলে ওর নিজের বাড়িরই অংশ। ওকে বের করে দেওয়ার পর থেকে তো ওখানে আমাদের কেউ বসত না। ফলে এটা কোনও ‘দখল’ নয়, বরং অনেকটা ‘নিজের ঘরে নিজে রং করা’।” ওদিকে বামেদের পাল্টা দাবি, সাধারণ মানুষ তৃণমূলের ওপর আস্থা হারিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই লাল ঝান্ডার নীচে ভিড় করছেন। জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী সিপিএম প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, ‘‘ভোটের মুখে তৃণমূলের এই ভাঙন আমাদের শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।”
আরও পড়ুন: আর বেশি সময় নয়, কমল গ্যাস সিলিন্ডার ডেলিভারির অপেক্ষা
নির্বাচনের প্রাক্কালে ডোমকল শহরে তৃণমূল এবং সিপিআইএম এর দলবদলের দ্বন্দ্বের ঘটনায় বেশ থমথমে পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাই সেক্ষেত্রে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য আজ থেকেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমস্যা এড়াতে ডোমকলের বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। এখন দেখার পালা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ডোমকলে কোন দলের পতাকা ওড়ে।










