সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে কলকাতার রাজপথে নেমেছে মমতার তৃণমূল (Mamata Trinamool Protest)। রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। তবে গতকালই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, কোনও রকম বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। দরকার পড়লে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। সেই হুঁশিয়ারির প্রতিফলন দেখা গেল শহর কলকাতায়। তৃণমূলের মিছিল শুরু হতেই আটকে দেয় কেন্দ্রীয় বাহিনী।
তৃণমূলের মিছিল নিয়ে কলকাতায় ধুন্ধুমার
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে মমতার তৃণমূলের এই কর্মসূচি। দিল্লিতে বিরোধী দলের একাধিক নেতা-কর্মীদের আটক এবং পুলিশের অত্যাচারের বিরুদ্ধেই প্রতিবাদে নেমেছে মমতার তৃণমূল। তবে গতকালই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, “বেরোতে দেব না। সিপিকে নির্দেশ দিয়েছি। রাজাবাজার থেকে এক পা এগোতে দেব না। প্রয়োজন পড়লে সেন্ট্রাল ফোর্স নামাতে বলব। কিন্তু বেরোতে দেব না। কোনও বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে দেব না। দুর্গাপূজা।”
মঙ্গলবার রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত এই প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেয় তৃণমূল। পূর্ব নির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী এদিন দুপুরে মিছিল শুরু হতেই রাজাবাজার এলাকায় বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকায়। এমনকি সেখানে দমে না গিয়েই আন্দোলন শুরু করেন কুণাল ঘোষ, দোলা সেন, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়রা। কুণাল বলেন, “যেভাবে কাল রাত থেকে রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী হুমকি দিয়েছে আর পুলিশ নামিয়ে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, তাতে আমরা পা দিইনি। তবে আমাদের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ সফল। দিল্লি ভয় পেয়েছে। ভয় পেয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সরকার।”
আরও পড়ুন: পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, ছাড়লেন বিজেপির সাংসদ পদও, জানুন কারণ
কুণাল আরও বলেন, “জ্ঞানেশ কুমার ভোট চোর। ‘ভোট চোর গদ্দি ছোড়’ স্লোগান দিয়েছি তাতে আপনাদের গায়ে লাগছে কেন? পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী দেখিয়ে যারা এক পাও এগোতে না দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে, তারা আসলে কাপুরুষের রাজনীতি করছে। দোলা সেনের হুঁশিয়ারি, গত পাঁচ মাসে শাসক দল আমাদের একটাও মিটিং-মিছিলের অনুমতি দেয়নি। প্রতিবার আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। গতকাল প্রশাসনিক প্রধানরা ঘোষণা করেছিলেন যে এক পাও এগোতে দেওয়া হবে না। ওদের মূল মতলব হল পুজোর মুখে ছাত্র-যুবদের জেলে পুরে রাখা।”










