রাঘবের BJP যাত্রায় বদলাচ্ছে রাজ্যসভার অঙ্ক, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য কত আসন দরকার?

Published:

Raghav Chadha

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচন চলাকালীন রাজনীতির ময়দানে ঘটল বড় চমক। সকলকে চমকে দিয়ে আম আদমি পার্টি ছেড়ে শুক্রবার বিজেপিতে যোগ দিলেন রাজ্যসভা সাংসদ রাঘব চাড্ডা (Raghav Chadha)। শুধু তিনি নন, তাঁর সঙ্গে আরও ছয় নেতা পদ্মশিবিরে (BJP) যোগ দিয়েছেন। অর্থাৎ আপের মোট ১০ জন রাজ্যসভার সাংসদের মধ্যে সাতজনই চলে গেলেন বিজেপিতে। আর তাতেই সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগোচ্ছে NDA।

বিজেপিতে যোগ দিলেন রাঘব চাড্ডা

২০২২ থেকে আপের রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রাঘব চাড্ডা। সম্প্রতি আপ তাঁকে রাজ্যসভার ডেপুটি লিডার পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিল। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাঘব এবং আপের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা থেকে তাঁকে বিরত রাখার চেষ্টা করছে দল। আর তাই এবার সকলকে চমকে দিয়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন রাঘব। সব মিলিয়ে এইমুহুর্তে সংসদের উচ্চকক্ষে শাসকজোট NDA-র সদস্যসংখ্যা দাঁড়াল ১৪৫-এ। এবার তাতে খানিক আশার আলো দেখছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার।

সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে এগোচ্ছে NDA জোট

আসলে রাজ্যসভায় আপ-এর মোট ১০ জন সাংসদ ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৭ জন- রাঘব চাড্ডা, সন্দীপ পাঠক, হরভজন সিং, অশোক কুমার মিত্তল, রাজিন্দর গুপ্ত, বিক্রমজিৎ সিং সাহনে এবং স্বাতী মালিওয়াল দল ছেড়েছেন। সংখ্যাটি ১০-এর দুই-তৃতীয়াংশের বেশি। অর্থাৎ সুকৌশলেই নিজের সাংসদ পদটি রক্ষা করেছেন রাঘব চাড্ডা। এদিকে সংসদের উচ্চকক্ষে শাসকজোট এনডিএ-র সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৫-এ। ফলস্বরূপ ২৫০ আসনের রাজ্যসভায় যা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে এগোচ্ছে। কিন্তু প্রয়োজন মাত্র ১৮। তাহলেই ভবিষ্যতে রাজ্যসভায় বিল পাশ করাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের আর কোনও অসুবিধা হবে না।

আরও পড়ুন: মালদ্বীপ যাচ্ছেন? এই কাজ করলে মিলতে পারে মৃত্যুদণ্ড, ভারতীয়দের জন্য নির্দেশিকা

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই ২০২৯ সালে আইনসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করা এবং লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮১৬ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংবিধান বিলটি লোকসভায় পরাজিত হয়, কারণ NDA দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হয়েছিল। তাতে বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় রীতিমত কাঠগড়ায় তুলেছিলেন কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টিকে। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ভবিষ্যতে রাজ্যসভায় এমন বিল পাশের ক্ষেত্রে শাসকজোট কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।