সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভরাডুবি হয়েছে তাঁর দলের। অথচ তিনি তাঁর জায়গায় অনড়। পদত্যাগ করবেন না। তাঁর স্পষ্ট কথা, “আমি গিয়ে পদত্যাগ করব না। তাতে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলে হোক।” গতকাল নিজেই সংবাদমাধ্যমে বলেছিলেন যে, “আমি ইস্তফা দিতে যাব না।” আর আজ বিজয়ী বিধায়কদের সাথে বৈঠক করে ফের একই সুর চড়ালেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
পদত্যাগ করবেন না মমতা
উল্লেখ্য, এবার বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ২০৭ আসন নিয়ে জয়লাভ করেছে। সেই সূত্রে ১৫ বছরের নিপীড়িত শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অধঃপতন হয়েছে। আগামী ৯ মে ভারতীয় জনতা পার্টির নতুন সরকার শপথগ্রহণ করবে। ৭ মে শেষ হচ্ছে বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ। তার আগেই পদত্যাগ করার কথা মমতার। কিন্তু না, তিনি তাঁর দাবিতে অনড়। তাঁর কথায়, “আমি হারিনি। আমাদেরকে হারানো হয়েছে। আমি গিয়ে পদত্যাগ করব না।”
এদিকে আজ কালীঘাটে বিজয়ী বিধায়কদের ডেকে বৈঠক করেব মমতা এবং অভিষেক। সেখানে তিনি জানান, “আমি গিয়ে পদত্যাগ করব না। রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলে হোক। দু’দিনের জন্য রাষ্ট্রপতি শাসন থাকুক। রেকর্ড হয়ে থাকুক। ওরা আমাকে বরখাস্ত করে দিক। আমি চাই সেই দিনটা যেন একটা কালো দিনে পরিণত হয়।”
বৈঠকে মমতার আরও সংযোজন, “আমরা হারিনি। আমাদেরকে জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত রাজ্যে বিরোধী দলনেতা ঠিক হয়নি। ওরা আগে বিধানসভা গঠন করুক। আমাকে মেরেছে, ববিকে মেরেছে। আমাদেরকে এখানে হারানো হলেও দিল্লি আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য। গোটা ইন্ডিয়া জোটকে আমি আরও ঐক্যবদ্ধ করব। একসঙ্গে লড়াই করব। আমি মানুষকে বিশ্বাস করি। আর এই পরিস্থিতির পিছনে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যুক্ত রয়েছেন। নৈতিকভাবে আমি ওদেরকে হারিয়ে দিয়েছি। আর ওরা আমাদেরকে অনৈতিকভাবে হারিয়েছে।”
আরও পড়ুন: জনগণরমন-র মতোই সমান মর্যাদা পেল বন্দেমাতরম, অসম্মান করলেই জেল-জরিমানা
তবে আসলে যদি তিনি পদত্যাগ না করেন, তাহলে এখন রাজ্যপালের হাতেই থাকবে দায়িত্ব। যা করার তাঁকেই করতে হবে। প্রথমত, তিনিই সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে বরখাস্ত করে দিতে পারেন। দ্বিতীয়ত, তিনি রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে দিতে পারেন। তখন এমনিতেই মমতা পদ হারাবেন। এছাড়া তিনি আইনি পথের দ্বারস্থ হতে পারেন। এখন দেখার, স্বেচ্ছায় তিনি পদত্যাগ করেন কিনা।










