আবাসে ঘর পাইয়ে দিতে উপভোক্তার মায়ের গয়না বেচা টাকা নিচ্ছেন তৃণমূল নেতা, ভিডিও ভাইরাল

Published:

Basirhat

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ফিরে এল নারদ কাণ্ডের স্মৃতি, হুমকি হুঁশিয়ারি দিয়ে উপভোক্তার থেকে টাকার বান্ডিল নেওয়ার অভিযোগ উঠল বসিরহাটের (Basirhat) তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। ভাইরাল সেই ভিডিও। জানা গিয়েছে, এলাকায় আবাস যোজনা-সহ সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলার অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে৷ এবার সরকার বদল হতেই সেই সময়ের ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হতেই শুরু হল নয়া বিতর্ক।

হাত পেতে টাকা নিচ্ছেন তৃণমূল নেতা

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, বসিরহাট পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর তথা রাজ্য তৃণমূল শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি সাধারণ সম্পাদক কৌশিক দত্ত সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময় তৃণমূলের রাজত্ব ছিল বলে কোনরকম অভিযোগ করে লাভ হত না স্থানীয়দের। কিন্তু এবার বিজেপি সরকার আসতেই তাঁর উপর একে একে ক্ষোভ প্রকাশিত হল। যদিও ভোটের পর থেকে পলাতক তিনি ৷ এমতাবস্থায় তাঁর টাকা নেওয়ার একটি ভিডিয়ো সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

মায়ের গয়না বেচে টাকা দিচ্ছিল নেতাকে

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি কাউন্সিলরের হাতে টাকার বান্ডিল তুলে দিয়ে বলছেন, তিনি মায়ের সোনার গহনা বিক্রি করে এই টাকা জোগাড় করেছেন। আর সেই খবর শোনার পরও হাত পেতে টাকা নিতে দেখা যায় তাঁকে। এইভাবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অনেক টাকা হাতিয়েছেন ওই নেতা। এর আগে টাকা ফেরতের দাবিতে তাঁর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। এমনকি থানায় লিখিত অভিযোগও জানানো হয়েছে, আপাতত পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে খুঁজছে। এদিকে কৌশিক দত্তের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই নিয়ে স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক সুরজিৎ মিত্র কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

আরও পড়ুন: গভীর নিম্নচাপের জেরে বিকেল থেকেই অতিভারী বৃষ্টি, কেমন থাকবে আগামীকালের আবহাওয়া?

তৃণমূল নেতার এই কর্মকাণ্ড নিয়ে বিজেপি নেতা তথা বসিরহাট দক্ষিণের পরাজিত প্রার্থী ডা. শৌর্য বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “তৃণমূলের কাউন্সিলর মানেই চোর । আবাস যোজনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের দুর্নীতি এখন সামনে চলে এসেছে । বসিরহাট পুরসভার চেয়ারম্যান-সহ সমস্ত কাউন্সিলরকে দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত করেছিল তাদেরই সরকার, অথচ পুরবোর্ড এখনও প্রশাসক দিয়ে চলছে এবং কোনও কাউন্সিলর সেখানে নেই।” এখন দেখার পুলিশ পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কী সিদ্ধান্ত নেয়।