প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল ছেড়ে আরাবুল ইসলাম (Arabul Islam) যোগ দিয়েছিলেন ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট বা আইএসএফে (All India Secular Front)। কিন্তু ভাঙড় দু’নম্বর পঞ্চায়েত সমিতিতে সভাপতি হিসেবে তিনি থেকে গিয়েছিলেন। কিন্তু এবার সেই দলই ভাঙড় (Bhangar) ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতিতে অনাস্থার তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার বারইপুর মহাকুমা শাসকের অফিসে আরাবুলের বিরুদ্ধে ডেপুটেশন জমা দিয়েছে। তবে কি এর নেপথ্যে রয়েছে তৃণমূলের (All India Trinamool Congress) কারসাজি।
আরাবুলের বিরুদ্ধে এবার অনাস্থা ISF এর
চলতি বছরের মার্চের মাঝামাঝিতে তৃণমূল ছেড়ে ISF-এ যোগ দিয়েছিলেন ভাঙড়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা আরাবুল ইসলাম। সেই সময়ই দল তাঁকে ক্যানিং পূর্বের টিকিট দিয়েছিল। যদিও বিধানসভা ভোটে জিততে পারেননি তিনি। তবে পঞ্চায়েত সমিতির পুরোনো পদেই আসীন হয়েছিলেন তিনি। এদিকে দলে যোগদানের তিন মাসের মধ্যেই আরাবুলের বিরুদ্ধে এবার অনাস্থা আনল তাঁরই দল ISF। জানা গিয়েছে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্যই ISF ২৩ জন সদস্যের স্বাক্ষর সম্বলিত চিঠি জমা দিয়েছে বারুইপুরের মহকুমা শাসকের কাছে। আর সেই চিঠি পেয়ে প্রশাসনসূত্রে জানানো হয়েছে, শীঘ্রই প্রস্তাব খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কী কারণে এই অনাস্থা?
রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূল থেকে ISF এ যোগদানের পর কী এমন হলো, যার জন্য আরাবুলকে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির পদ থেকে সরে যাওয়ার জন্য অনাস্থা পাঠাল আইএসএফ। আসলে বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরনোর কয়েক দিন পরেই পঞ্চায়েত সমিতির দখল নিয়েছিলেন আরাবুল। তিনি চেয়েছিলেন আর দু’বছর ওই পদে থেকে তাঁর মেয়াদ শেষ করার। নিয়মিত অফিসে আসা শুরু করতেই তাঁর দপ্তরে ভিড় বাড়ছিল সাধারণ মানুষের। আর সেটাই নাকি ভালো ভাবে নেননি আইএসএফ-এর শীর্ষ নেতৃত্ব। এমনকি কিছুদিন আগে আরাবুলের ফ্ল্যাটে শওকত ঘনিষ্ঠ নেতা শুভকে নিয়ে মিটিং করার ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছিল। তা নিয়েও মনোমালিন্য হয়েছিল। এবার তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটল।
আরও পড়ুন: সাতসকালে কলকাতায় ফের ED অভিযান, ঘিরে ফেলা হল প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের বাড়ি
আরাবুলের দাবি, বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির সব নির্দেশ মেনেই চলছিলেন তিনি। তার পরেও দলের এই ‘চক্রান্তে’ হতবাক আরাবুল। এদিকে আরাবুল অপসারণে জোট বাঁধল ISF এবং তৃণমূল। তৃণমূল সদস্যদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নাকি আরাবুলের অপসারণ চাইলেন আইএসএফের সদস্যরা। এতদিন যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে নওশাদের দল ISF লড়াই করল, এখন তারাই পাল্টি খেয়ে হাত মেলাচ্ছেন একে অপরের। যদিও এ ব্যাপারে অবশ্য বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিধায়ককে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি, মেসেজেরও জবাব দেননি।










