NDA-র পথে মমতার ‘রেপ্লিকা’ সায়নী ঘোষ? তুমুল চর্চা রাজনৈতিক মহলে

Published:

Saayoni Ghosh

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ক্রমেই ফাটল স্পষ্ট তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্গে। পরিষদীয় দল ভেঙে যাওয়ার পর এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলেও ভাঙন স্পষ্ট। গতকাল, সোমবার NDA-র শরিক হতে চেয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছেন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদরা। এমতাবস্থায় গুঞ্জন উঠছে এবার নাকি বিদ্রোহীদের দলে নাম লেখাতে চলেছেন খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) অত্যন্ত বিশ্বস্ত সেনাপতি তথা যাদবপুরের তারকা সাংসদ সায়নী ঘোষ (Saayoni Ghosh)।

লোকসভার স্পিকারকে চিঠি ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের

২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর থেকেই একের পর এক বিতর্ক এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসছে। আর তাই এবার অনেকেই মমতার দল ছাড়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। সেই কারণে বিজেপির নেতৃত্বাধীন NDA-র শরিক হতে চেয়ে গতকাল অর্থাৎ সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছিলেন ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ। যা নিয়ে ব্যাপক শোরগোল রাজ্য রাজনীতিতে। তৃণমূল যে পুরোপুরি ভেঙে একেবারে টুকরো টুকরো হয়ে যেতে চলেছে তা বেশ স্পষ্ট। আর এবার এই পরিস্থিতিতে সুর বদলের জল্পনা উঠে এল যাদবপুরের তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষের বিরুদ্ধে।

বিদ্রোহী দলে নাম লেখাবেন সায়নী?

উল্লেখ্য, মমতার হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর দলে তাঁর সাংগঠনিক দায়িত্ব বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছিল। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ময়দানে তাঁর রাজত্ব বাড়তে থাকে। শুধু তাই নয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনুসরণ করতে শুরু করেন সায়নী। পরনে সাদা শাড়ি, পায়ে হাওয়াই চটি.. যেন মমতারই ‘রেপ্লিকা’। এমনকি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তিনি। কিন্তু সেই এখন বিদ্রোহী দলে যোগ দেওয়ার একটা আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও অফিসিয়ালি কোনো মতামত পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: তৃণমূল অন্দরে বাড়ছে অস্বস্তি! কোলাঘাটে শুভেন্দুর বৈঠকে হাজির দেব

সম্প্রতি যাদবপুরের স্টেশন চত্বরে হকার উচ্ছেদ ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদী স্বর সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলেছিলেন সায়নী ঘোষ। তিনি ফেসবুকে জানিয়েছিলেন, “যাদবপুর স্টেশন রোডে বুলডোজারের তাণ্ডব হৃদয়বিদারক। রাজ্যজুড়ে হকার উচ্ছেদ অভিযান হাজার হাজার মানুষকে তাদের আয়ের উৎস থেকে বঞ্চিত করে চলেছে। কোনও নোটিশ বা ইতিবাচক আলোচনা ছাড়া বলপূর্বক উচ্ছেদ অন্যায্য এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিয়ে সম্পূর্ণ নীরবতা, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি বর্তমান সরকারের অসহনশীলতার পরিচয় দেয় এবং তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।” এখন দেখার তিনি কোনো অন্য ঝান্ডা ধরেন কিনা।

google button