‘স্যাটা গরম’ মন্তব্য নিয়ে তোলপাড়, জগন্নাথ বললেন ‘আমি নিজের ভাষাতেই বলব’

Published:

Jagannath Chattopadhyay

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার দায়িত্ব পেয়েই এবার সমালোচনার মুখে পড়লেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় (Jagannath Chattopadhyay)। এমতাবস্থায় বিতর্কিত মন্তব্যের জবাবে স্পষ্ট বার্তা দিলেন সিউড়ির বিধায়ক। পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। কিন্তু এবার রাজনৈতিক পালাবদলের পর উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করা নিয়ে সরাসরি মুখ খুললেন তিনি।

বিতর্কিত মন্তব্য উচ্চ শিক্ষামন্ত্রীর

সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এক বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘কলেজে এবং বিশ্ববিদ্যালয় টাকা তুললে স্যাটা গরম করে দেব। এমনকি নয়া বিজেপি কর্মী হলেও একই শাস্তি পেতে হবে।’ এদিকে তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহল এবং সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন একজন শিক্ষামন্ত্রী হয়ে তাঁর এমন মন্তব্য মানায় না। এবার সেই বিতর্কের মাঝেই নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করলেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।

মন্তব্যের চাঞ্চল্যকর ব্যাখ্যা মন্ত্রীর

রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল সোমবার, বোলপুর সংলগ্ন কংকালীতলায় সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের জনকল্যাণ শিবির পরিদর্শনে এসেছিলেন উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। সেখানে সাংবাদিকরা বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি বলেন, “আমি বীরভূমের ছেলে। নিজের ভাষাতেই কথা বলব। তাতে কারও পছন্দ হোক বা না হোক, বীরভূমের ভাষায় কথা বলা বন্ধ হবে না। আমি যে জেলার মানুষ, সেই জেলার কিছু শব্দ আমার মুখে আসতেই পারে। মানুষের কী বলা উচিত, কী খাওয়া উচিত, কী পরা উচিত তা নির্ধারণ করার অধিকার কারও নেই। তাহলে আমার ভাষা নিয়ে এত আপত্তি কেন?”

আরও পড়ুন: খুলবে সমস্ত চা বাগান, উন্নয়ন কাকে বলে এবার দেখবে পাহাড়! ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় আঞ্চলিক ভাষা নিয়ে বলেন, “সামান্য দুটি শব্দ বলেছি অমনি গুঁতিয়ে দিছেন, খেদিয়ে দিছেন। এ সব মানব না। আপনারাই বলেন মানুষ কী বলবে, কী করবে, কী খাবে, কী পড়বে সেটুতে কারও কিছুই বলার নাই। তাহলে আমাকে নিয়ে এত জ্বালা কেন। আমি তো নিজের ভাষায় কথা বলছি। আমার ভাষার দাম নাই। আমার ভাষার সম্মান নাই। যাঁরা বলছে, তাঁরা আমাদের ভাষা না বুঝে রাঢ়বঙ্গের মানুষকে অপমান করছেন। কিন্তু এটাই আমার মাতৃভাষা।” অর্থাৎ তিনি যে এই মন্তব্যের জন্য কোনো রকম আপোষ করছেন না এটাই তাঁর জবাবে স্পষ্ট।