সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গদ্দার বা বেইমানির উদাহরণ হয়তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যা হয়েছে তার থেকে বেশি কিছু হতে পারে না! এবারের বিধানসভা নির্বাচনে এমনিতেই ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। ২০৮টি আসনে জিতে ক্ষমতা দখল করেছে বিজেপি। তবে তারপর থেকেই তৃণমূলে একের পর এক ভাঙন। দলীয় কর্মী থেকে শুরু করে বিধায়ক, এমনকি সাংসদরা সব বিরোধী শিবিরে নাম লিখিয়েছে। কার্যত তৃণমূলের বিধানসভা ভেঙে ঋতব্রতর নেতৃত্ব তৈরি হয় নব্য তৃণমূল। অন্যদিকে লোকসভাও হাতছাড়া হয় তৃণমূল কংগ্রেসের। ২২ জন সাংসদ বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখে ফেলে রাতারাতি। এবার দলত্যাগী সেই গদ্দারদের উদ্দেশ্যেই নিজের খব উগড়ে দিলেন দলের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
ফেসবুক লাইভে মমতা
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ বিকাল সাড়ে চারটায় ফেসবুক লাইভে আসেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি তাঁর দলের সাথে বেইমানি করা কর্মীদের উপর নিজের ক্ষোভ উগড়ে দেন। প্রথমেই বিজেপির ভোট লুটের অভিযোগ টেনে এনে মমতা বলেন, “এমনিতেই এবার বিজেপি ভোট লুট করে ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু যেভাবেই আসুক না কেন তারা কাজ করছে। তবে কাজের বদলে বেশি সন্ত্রাস চলছে। বাড়িঘর ভাঙচুর থেকে শুরু করে হকার উচ্ছেদ, দলীয় কর্মীরা বাড়ি ছাড়া, এভাবে কতদিন চলতে পারে? এমনিতেই তারা কাউন্টিং-র সময় হাইজ্যাকিং করেছে। কিন্তু তারা এখন সুস্থ মানুষকে অসুস্থ করে তুলছে। এই বাংলায় মহা সন্ত্রাস চলছে। এমনকি আমার দলীয় কর্মীদেরকে মিথ্যা কেস দিয়ে ফাঁসানো হচ্ছে এবং জেলে পাঠানো হচ্ছে।”
এরপরই তিনি নিজের সঙ্গে গদ্দারি করা দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “যারা তৃণমূল কংগ্রেসের সিম্বলে জিতে এসেছেন, যার নিচে আমার সই ছিল, তারা আজ বলছেন যে ২০২৩ এর পর নাকি বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও অস্তিত্ব ছিল না। আপনারা ভোটে দাঁড়ালেন কী করে? অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন হিসেবে জোড়াফুল সিম্বলটা তো আমিই দিয়েছিলাম, এবং পার্টির নামটা তো আমিই দিয়েছিলাম। এবার বিজেপি এমনিতেই নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে ভোট লুট করেছে। কিন্তু তারা ক্ষমতা দখল করার পরেই আপনারা পাল্টি খেলেন? মাত্র দুই মাসে ধৈর্য ধরতে পারলেন না? এত তাড়াতাড়ি দলের সঙ্গে বেইমানি করে চলে গেলেন?”
আরও পড়ুন: ১৪ বছর পর ফের খুলতে পারে বরুণ বিশ্বাসের ফাইল, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিশেষ আর্জি পরিবারের
এমনকি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আরও সংযোজন, “বেইমানির একটা সীমা থাকা উচিত। পার্টির সঙ্গে শুধুমাত্র বেইমানি করেননি। আপনারা জন্মদাত্রী মায়ের সঙ্গেই বেইমানি করেছেন। আপনারা তো সরাসরি বিজেপি করছেন এখন। বিজেপি করবেন, আবার তৃণমূল বলে চালাবেন এটা তো হতে পারে না। কারণ, তৃণমূল কংগ্রেসের আদর্শই বিজেপি বিরোধী। আপনারা যারা গদ্দার হয়ে বিজেপির সঙ্গে চলছেন, তাদের যদি সাহস থাকে বা বুকের পাটা থাকে তাহলে সরাসরি বিজেপিতে গিয়ে জয়েন করুন। আমাদের কোনও আপত্তি নেই। তাহলে বুঝব আপনারা বিজেপিতে চলে গিয়েছেন। বিজেপিতে থেকেই আপনারা দল ভাঙার চক্র চক্রান্ত করছেন। এসব তো হবে না…”










