“শাসকই হামলাকারী হয়ে উঠেছে”, অভিষেকের উপর হামলার ঘটনায় ফুঁসে উঠলেন মমতা

Published:

Mamata Banerjee

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সোনারপুরে গিয়ে ল্যাজেগোবরে অবস্থা হয়েছে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)। জনরোষের মুখে পড়ে তাঁর উপর ডিম থেকে শুরু করে ইট-পাটকেল, এমনকি জুতো পর্যন্ত ছোঁড়া হয়েছে। জামার বোতাম ছিঁড়ে বেহাল দশা হয়েছে অভিষেকের। শুনতে হয়েছে ‘চোর চোর’ স্লোগান। যদিও সেখান থেকেই একেবারে বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ। এবারে এ নিয়ে মুখ খুললেন তৃণমূলের সভানেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।

অভিষেকের উপর হামলা নিয়ে সুর চড়ালের মমতা

অভিযোগ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর এই বর্বর হামলার কিছুক্ষণ পরেই তৃণমূলের এক্স মাধ্যম থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছ। তারা জানিয়েছে, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিহত সঞ্জু কর্মকারের শোকাহত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তবে বিজেপির মদতপুষ্টরা তাঁকে নৃশংসভাবে আক্রমণ করেছে। যদিও আমাদের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক পিছু হটতে চাননি, বরং তিনি একটি পরিবারের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন। বিজেপির গুন্ডাদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন সাংসদ।” এমনকি তারা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে উল্লেখ করে লিখেছেন, “আজকের ঘটনা রাজনীতির আসল রূপ উন্নীত করে দিয়েছে, যার নেতৃত্ব আপনি দিয়ে থাকেন।”

ওই পোস্ট শেয়ার করে তৃণমূলের সভানেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন যে, “শাসকই হামলাকারী হয়ে উঠেছে। বিজেপির লজ্জা হওয়া উচিত।” পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সুর মিলিয়ে সোনারপুরের ঘটনার নিন্দা প্রকাশ করেছেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, এবং উত্তরপ্রদেশের সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। তাঁরা বিজেপিকেই নিশানা করেছেন। যদি অন্যদিকে আবার এই হিংসার ঘটনাতে বিজেপির যোগসূত্র নেই বলে দাবি করেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

আরও পড়ুন: “আমার মৃতদেহ উদ্ধার হোক এখান থেকে” সোনারপুরের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছেন অভিষেক

না বললেই নয়, আজ সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে গাড়ি থেকে নামামাত্র হেনস্থার শিকার হন তিনি। প্রথমেই তাঁকে স্থানীয় মহিলারা কালো পতাকা দেখান। তবে সোনারপুরে ঢুকতেই পরিস্থিতি একেবারে রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। তাঁর পরিষ্কার পোশাকে ছুঁড়ে মারা হয় ডিম, জুতো। এমনকি গাড়ি থেকে কোনও মতে নেমে বাইকে করে গন্তব্যে পৌঁছতে চাইলেই তাঁকে মারধর করা হয়। ছিঁড়ে দেওয়া হয় তাঁর জামার বোতাম। যদিও তিনি শেষ পর্যন্ত গন্তব্যে পৌঁছন এবং সেখানে সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দেন।