সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) মুকুটে নয়া পালক। রবিবার বিরাট মাইলফলক স্পর্শ করে ফেললেন মোদী। হ্যাঁ, দেশের যে কোনও সরকার প্রধান হিসেবে টানা ক্ষমতায় থাকার নিরিখে তিনি এবার সিকিমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পবন কুমার চামলিংয়ের (Pawan Kumar Chamling) দীর্ঘদিনের রেকর্ড গুঁড়িয়ে দিলেন। সেই সূত্রে তিনিই হয়ে উঠলেন ভারতের দীর্ঘমেয়াদী শাসক।
৮৯৩১ দিনের দ্বৈরথ মোদীর
প্রসঙ্গত, এতদিন যাবৎ ভারতের কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বা দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সম্মিলিতভাবে দীর্ঘতম সময় ক্ষমতায় থাকার রেকর্ড ছিল পবন কুমার চামলিংয়ের দখলে। তিনি টানা ৮৯৩০ দিন শাসনভার পরিচালনা করছিলেন। আর আজ ২২ মার্চ ক্ষমতায় থাকার ৮৯৩১ দিনে পদার্পণ করলেন তিনি। কাজেই সেই রেকর্ড এবার নিজের নামে লিখিয়ে ফেললেন প্রধানমন্ত্রী। তবে এক্ষেত্রে উল্লেখ করার বিষয়, নরেন্দ্র মোদী গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী তথা ভারতের প্রধানমন্ত্রী, এই দুই মেয়াদের সম্মিলিত পরিসংখ্যানের মাধ্যমেই এই খেতাব অর্জন করেছেন।
এদিকে মোদীর এই রাজনৈতিক সফর শুধুমাত্র যে সময়ের হিসেবে এমনটা নয়, বরং রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা, জনসমর্থনেরও জলজ্যান্ত প্রমাণ। জানিয়ে দিই, গুজরাটের ভদনগরের এক সাধারণ পরিবার থেকে তিনি উঠে এসেছিলেন। রেল স্টেশনের চা বিক্রি থেকে শুরু করে আরএসএস-এ যোগদান এবং পরবর্তীতে বিজেপির শীর্ষ সংগঠক হিসেবেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। এরপর ২০০১ সালে প্রথমবার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। আর টানা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সেই পদে বহাল থাকেন তিনি। এরপর ২০১৪ সালের বিপুল জনসমর্থন নিয়েই তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রীর সিংহাসনে বসেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ এবং ২০২৪ সালে টানা জয়লাভ করে জহরলাল নেহেরু রেকর্ডে ভাগ বসান তিনি।
আরও পড়ুন: ঈদের নামাজ শেষে পাকিস্তানে কুপিয়ে খুন লস্কর কমান্ডারকে! কে এই বিলাল আরিফ সালাফি?
দীর্ঘমেয়াদে নরেন্দ্র মোদী বেশ কিছু কৃতিত্বেরও অধিকারী হয়েছেন। প্রথমত, তিনিই দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি ভারতের স্বাধীনতার পর জন্মগ্রহণ করেছেন। দ্বিতীয়ত, দেশের একমাত্র প্রধানমন্ত্রী তিনিই যার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরেই রাজ্য চালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এমনকি ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তিনি ইন্দিরা গান্ধীকে টপকে ভারতের দ্বিতীয় দীর্ঘমেয়াদী প্রধানমন্ত্রী হন। আর ১৯৭১ সালের পর তিনিই প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি কংগ্রেস বিরোধী নেতা হিসেবে পরপর দু’বার পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় বসেছেন।












