রাত পোহালেই ভোট গণনা শুরু, তার আগেই প্রমাণ সহ ভয়াবহ অভিযোগ শুভেন্দু অধিকারীর

Published:

Suvendu Adhikari X post goes viral

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: রাত পোহালেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) ভোট গণনা এবং ফলাফল প্রকাশ। আর তার ঠিক আগেই বেশকিছু হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করে বড়সড় অভিযোগ তুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বিজেপি নেতার দাবি, ভোট গণনার দিন বিশেষ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের তাঁদের কাজ বা দায়িত্বের বিবরণ জানানোর জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ আবার স্বেচ্ছায় নির্বাচনী দায়িত্বের তথ্য ফর্মের মাধ্যমে জানিয়ে দিচ্ছেন। এমন ঘটনা নির্বাচনী প্রটোকলের গুরুতর লঙ্ঘন।

ঠিক কী অভিযোগ করলেন শুভেন্দু?

রবিবার দুপুরে, নিজের এক্স হ্যান্ডেলে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের কিছু স্ক্রিনশট শেয়ার করে বিজেপি নেতা লিখেছেন, “আমার নজরে এসেছে, গণনা দিবসের দিন দায়িত্বে থাকা বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ইতিমধ্যেই তাদের নিজ নিজ বিভাগীয় সংগঠন এবং সমিতির কাছে তাঁদের দায়িত্বের বিবরণ, অবস্থান এবং নিজেদের পদবী প্রকাশ করেছেন।” শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, তিনি জানতে পেরেছেন বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে স্প্রেডশিট ও তালিকা পাঠানো হচ্ছে। বিভিন্ন কর্মকর্তারা নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের চাপ দিচ্ছেন, তাঁরা যেন তাঁদের নির্বাচনী দায়িত্বের যাবতীয় তথ্য ফর্মের মাধ্যমে পূরণ করে দেন।

এদিন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা নিজের এক্স হ্যান্ডেলে যে দুটি ছবি পোস্ট করেছেন তার মধ্যে একটিতে এক সিডিপিও একটি ফর্মের লিঙ্ক পাঠিয়ে সেটি সবাইকে ফিলাপ করতে বলছেন। আরেকটি ছবিতে দেখা গেল সেই ফর্মের ডকুমেন্ট লিঙ্কের রিপ্লাই দিয়ে আরেক সিডিপিও লিখেছেন, “প্রত্যেককে অনুরোধ করা হচ্ছে এই ফর্মটি পূরণ করে দিন। এই ফর্ম পূরণ করতে আশা করি আপত্তি থাকার কথা নয়। আমরা কাজ করেছি তার অর্ডার আছে আর কাউন্টিংয়ে কী ডিউটি দেওয়া হয়েছে সেটাই জানতে চাওয়া হচ্ছে। প্লিজ সকলে এটি ফিলাপ করুন।” ছবিটিতে এও দাবি করা হয়, 137 জনের মধ্যে ইতিমধ্যেই 55 জন ওই ফর্ম পূরণ করে ফেলেছেন।

 

অবশ্যই পড়ুন: ৩৬ দিনে চারবার কালীঘাটের ওসি বদল, চামেলী মুখোপাধ্যায়ের বদলে এবার কে?

মূলত এমন ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা একেবারে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এভাবে বিভিন্ন কর্মকর্তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়া অর্থাৎ ভোট গণনায় নিযুক্ত ব্যক্তিদের তাঁদের কাজের বিবরণ জানানোর জন্য চাপ দিচ্ছেন। এই ঘটনা নির্বাচনী প্রটোকলের গুরুতর লঙ্ঘন। এই ধরনের ঘটনার ফলে গণনা প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের উপর রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ে। এমন অভিযোগ তুলে গোটা ঘটনাটিকে আমলে নিয়ে এর বিরুদ্ধে অবিলম্বে নির্দেশ জারি করার পাশাপাশি যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে ভারতীয় নির্বাচন কমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তার কাছে।