প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: এবার রাজনীতি ছাড়তে চলেছেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র (Madan Mitra)। এদিন এক সাক্ষাৎকারে রাজ্যের প্রাক্তন এবং বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে একরাশ অভিমান এবং ক্ষোভ প্রকাশ করলেন ঋতব্রত শিবিরের বিধায়ক। খুনের চেষ্টা, সন্ত্রাস ও নিরাপত্তার অভাবের অভিযোগ তুলে সরাসরি রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিতও দিলেন তিনি (Madan Mitra Statement)। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসা মাত্রই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে।
কেন ক্ষুব্ধ মদন মিত্র?
মদন মিত্র এদিন সাংবাদিকদের জানান, “জীবনে প্রথম এমন বিজয়া দেখলাম যেখানে মানুষের এত চোখের জল পড়েছে। আজ অবধি কোনও পুজোয় এমন হয়নি। আমি চারবারের বিধায়ক, অথচ নিজের কেন্দ্রে এখনও যেতে পারলাম না। খুন-সন্ত্রাস-হিংসা-নিরাপত্তার ভয়ে। আমাকে খুনের চেষ্টা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছিলাম, তিনিও পুলিশকে বলেছেন। বুঝতে পারলাম, ঈশ্বর ছাড়া কেউ আশ্রয় দিতে পারেন না।” এরপরই তিনি জানান, “এবার যাব, তাতে যদি মৃত্যু আসে, তাও ভালো। মুখ্যমন্ত্রী সারা বাংলার ঘুরলেন, আমি পারলাম না। আমি জেল খাটার পরেও নির্বাচনে আমার মার্জিন বেড়েছে। বিজয়াটা কেন তবে চোখের জল দিয়ে করতে হবে?
বিজয়ার শুভেচ্ছা শুভেন্দু ও মমতাকে
আক্ষেপের মাঝেও গণতান্ত্রিক তৃণমূলের বিধায়ক মদন মিত্র বিজয়ার শুভেচ্ছা জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীকে। তাঁর কথায়, “শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও বিজয়ার শ্রদ্ধা।” ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, “এখন আমি কিছু বলতে পারব না। মানুষ যাতে কষ্ট না পায় সেই চেষ্টা করব। তার একমাত্র পথ রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া।” পুজোর আগেও রাজনীতি থেকে সন্ন্যাসের ইঙ্গিত শোনা গিয়েছিল তাঁর কথায়। ফের বিজয়াতেই সরাসরি রাজনীতি ছাড়ার কথা জানিয়ে দিলেন মদন।
আরও পড়ুন: বৃদ্ধার মুখে গোপনাঙ্গ ঢোকানোর চেষ্টা, গ্রেফতার উত্তরপাড়ার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরের ছেলে
কেন ছাড়তে চান রাজনীতি?
কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র জানিয়েছেন, “এখন রাজনীতিকে আমি ঘৃণা করি, চালের মধ্যে যেমন কাঁকড় বেশি তেমনই রাজনীতিতেও অধার্মিক-অনৈতিক লোক বেশি। আমি এই রাজনীতিকে ঘৃণা করি এবং রাজনীতিক হিসেবে নিজের প্রতিও আমার ঘৃণা হয়।” এর আগে প্রবীণ রাজনীতিক হিসেবে নিজের দলের ‘অনৈতিক’ কর্মকাণ্ড নিয়ে বহুবার ক্ষোভ-অভিমান প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি রাজনৈতিক সতীর্থদের হয়েও একাধিকবার সুর চড়িয়েছেন মদন। কিন্তু এবার তাঁর রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে চরম শোরগোল শুরু হয়েছে।










