বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বড় মাপের ফুটবলারদের কি কেউ মনে রাখে? প্রশ্নটা নিছকই বোকামো মনে হলেও ভারতের এক সময়কার অন্যতম সেরা সেন্টার ফরোয়ার্ডের জীবনের ক্ষেত্রে বেশ মানানসই (Indian Football)। দেশের জন্য একটা সময় মাঠে নিজেকে নিংড়ে দিয়েছিলেন তিনি। নিজের ফুটবল জীবনে কত যে কীর্তি করেছেন বোধহয় নিজেরও মনে নেই। এক হাজারেরও বেশি গোল রয়েছে তাঁর নামে। রয়েছে 40টা হ্যাটট্রিক। সেই প্রাক্তন ফুটবলারের কথা আজ কেউ মনে রাখেনি। সেটা ভেবে দুঃখই হয় শিউ মেওয়ালালের (Sheoo Mewalal) ছেলের।
এক সময়কার সেরা ফুটবলারকে ভুলেই গিয়েছেন সবাই!
বাড়িটা কলকাতা পুরসভার অন্তর্গত 8/19 শাহ রজব রোডে। ফুটবল জীবনের সাধারণ পরিসংখ্যান দিয়ে মাপা যাবে না কিংবদন্তি খেলোয়াড় মেওয়ালালকে। জাতীয় দলের হয়ে বহুবার মাঠে দাপট দেখিয়েছেন তিনি। ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম শক্তি ছিলেন মেওয়ালাল। সেই 1951 সালে দিল্লিতে আয়োজিত এশিয়ান গেমসে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। সেই আসরের ফাইনালে ইরানের বিরুদ্ধে দলের হয়ে একমাত্র বা জয়সূচক গোলটি করেছিলেন মেওয়ালাল।
না বললেই নয়, দেশকে এশিয়ার সেরা করেছিলেন এই খেলোয়াড়। আনন্দের মুহূর্তে দুঃখ নিয়ে সময় কাটাতে হয়েছিল মেওয়ালালকে। ভারতের ফাইনাল জয়ের দিনে স্মল পক্সে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর বড় মেয়ের। সে দিন চোখ ভিজেছিল জলে। বুঝেছিলেন নিজের মানুষ হারানোর যন্ত্রণা। জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ডানা মেলে ওড়ার পাশাপাশি ঘরোয়া ফুটবলেও নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছিলেন হেস্টিংসের মেওয়ালাল। ভারতীয় ফুটবলের জন্য নিজেকে সদা সর্বদা এগিয়ে রাখলেও ভারতের কিংবদন্তি ফুটবলারের পাওনার জায়গাটা ফাঁকাই রইল।
আরও পড়ুন: ডোবালেন দেশের সম্মান! জাপানে মহিলাকে হেনস্থা! ‘তাড়ানো’ হল সোনাজয়ী ভারতীয়কে
গত জুলাই মাসে নিঃশব্দে পেরিয়ে গিয়েছে মেওয়ালালের জন্মশতবার্ষিকী। তা নিয়ে অবশ্য উচ্চবাচ্য নেই ভারতীয় ফুটবলে। 2008 সালে কলকাতার বাড়িতে প্রয়াত হওয়ার পর থেকে সেভাবে ভারতীয় দলের প্রাক্তন ফুটবলারকে নিয়ে আলোচনা শোনা যায়নি কোনও মহলেই। বাবা ভারতীয় ফুটবলের জন্য এত আত্মত্যাগ করার পরেও তাঁর জন্মবার্ষিকী টাও মনে রাখল না কেউ। ভাবলে খুব কষ্ট হয় ছেলে কিষেনলালের। তাঁর কথায়, “কেউ কিন্তু কথা রাখেনি। বাবাকে কেউ মনে রাখেনি। শিউ মেওয়ালালকে ভুলে গিয়েছে সবাই।”










