লাইসেন্সের কড়াকড়ি শেষ! তবে কি এবার ভারতে আসছে সেলফ ড্রাইভিং টেকনোলজি?

Published:

Self Driving

অনন্যা সরকার, কলকাতা: কেন্দ্র সরকারের তরফে পরিবহণ ব্যবস্থায় কিছু ভবিষ্যৎমুখী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার ঘোষণা করেছে যে, অটোমোটিভ রাডার (Automotive Radar) এবং কানেক্টেড কার প্রযুক্তির (Connected Car Technology) জন্য লাইসেন্সের বাধ্যবাধকতা সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ততটা তাৎপর্যপূর্ণ না হলেও, ভারতের ভবিষ্যতের জন্য এটিকে নিরাপদ, স্মার্ট ও সেলফ ড্রাইভিং মোবাইলটি (Self Driving Mobility)-এর দিকে অগ্রসর হওয়ার পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। কিছুদিন পর এর মাধ্যমে মানুষের জীবনের দৈনন্দিন রুটিন, এমনকি একটি সম্পূর্ণ ইন্ডাস্ট্রির গতিপদ বদলে দেওয়া সম্ভব হতে পারে। 

বন্ধ হল লাইসেন্সের বাধ্যবাধকতা

একটি সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত সরকার ৭৭ গিগাহার্টজ থেকে ৮১ গিগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডে পরিচালিত অটোমোটিভ রাডার  সিস্টেমের জন্য লাইসেন্সের প্রয়োজনীয়তা বাতিল করেছে। এছাড়াও, লাইসেন্সের অনিবার্যতার অবসান করা হয়েছে ৫.৯ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে পরিচালিত সিস্টেমের জন্যও, যা গাড়ি ও রাস্তার ধারের পরিকাঠামোর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ব্যবহার করা হয়। এই সিদ্ধান্তটি নেওয়ার দরুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের মতো উন্নত অটোমোবাইল  মার্কেটগুলির সমতুল্য স্থানে চলে এসেছে ভারত, যেখানে এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য ইতিমধ্যেই আরও সরল নিয়মকানুন চালু রয়েছে।

ভারতে যখনই কোনও নতুন অটোমোবাইল প্রযুক্তি আসে, তখন শুধু এর দাম নয় বরং সরকারের আরোপ করা জটিল নিয়মকানুন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে। তাই নতুন প্রযুক্তি বাজারে আনতে গিয়ে কোম্পানিগুলিকে মোটা টাকা খরচ করতে হয়, যার প্রভাব পরে পণ্যের দামের ওপর। 

যেহেতু, সরকারি ঘোষণার পর অটোমোটিভ রাডার-ভিত্তিক সিস্টেমের জন্য আর লাইসেন্সের দরকার হবে না, তাই গাড়ি প্রস্তুতকারকরা গ্লোবাল মার্কেটে ব্যবহৃত হার্ডওয়্যার ও প্রযুক্তি সহজেই ভারতে নিয়ে আসতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে বিশেষভাবে আলাদা সংস্করণ তৈরি করার প্রয়োজনীয়তাও কমবে। এর ফলে তাৎপর্যপূর্ণভাবে খরচ কমবে এবং এদেশের গ্রাহকদের কাছে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করা আরও সহজ ও দ্রুত হয়ে উঠবে। 

ADAS আর লাক্সারি ফিচার নয়

কিছু বছর আগেও অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম (ADAS) শুধুমাত্র লাক্সারি গাড়িগুলিতে দেখা যেত। কিন্তু এখন ধীরে ধীরে এটি অন্যান্য সাধারণ গাড়িতেও ব্যবহার করতে শুরু করেছে গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি। মাঝারি দামের এসইউভি (SUV) এবং অন্যান্য গাড়িগুলিতেও এখন এডিএএস দেখা যাচ্ছে। বর্তমান প্রতিযোগিতার বাজারে কার কোম্পানিগুলির মধ্যে কে কত বেশি এবং ভালো ফিচার দিতে পারে তারই প্রতিযোগিতা চলছে।

আরও পড়ুনঃ বাবা নয়, রোনাল্ডোর কন্যা মেসির ভক্ত! বিশ্বকাপের মাঝেই বড় খবর

অটোমেটিক ইমার্জেন্সি ব্রেকিং, ব্লাইন্ড স্পট মনিটরিং ও অ্যাডাপ্টিভ ক্রুজ কন্ট্রোল-এর মতো  ফিচারগুলি রাডার সেন্সরের সাহায্যে কাজ করে। এই সিস্টেমগুলো  শুধুমাত্র চালককে আরামই দেয় না, তার সাথে সাথে  গুরুতর দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করতেও সাহায্য করে। খরচ, নিয়ম কানুন এবং  পদ্ধতির মতো কারণগুলির জন্য বিশ্বে এখন পর্যন্ত এডিএএস প্রযুক্তির ব্যবহার সীমিত রয়েছে। লাইসেন্সের প্রয়োজনীয়তা দূর হলে গাড়িগুলিতে এই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে। 

সেলফ ড্রাইভিং কার নিয়ে হবে কাজ শুরু

বর্তমানে বিশ্বের উন্নত দেশগুলি দ্রুতগতিতে  সেলফ ড্রাইভিং মোবিলিটি নিয়ে কাজ করছে। তবে ভারত এখনও সেদিক থেকে অনেক দূরে রয়েছে, কিন্তু যেকোনো প্রযুক্তির সূচনা হয় পরিকাঠামোর উন্নতি দিয়ে। রাডার সেন্সর এবং  ভেহিকেল কমিউনিকেশন সিস্টেম ভবিষ্যতের সেলফ-ড্রাইভিং গাড়ির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হতে চলেছে। তাই, লাইসেন্সের বাধ্যবাধকতা না রাখার সিদ্ধান্তটি শুধুমাত্র আজকের দিনের গাড়িগুলোর জন্য নয়, বরং আসন্ন ভবিষ্যতের সেলফ ড্রাইভিং মোবাইলটির কথা মাথায় রেখে নেওয়া হয়েছে।