অনন্যা সরকার, কলকাতা: এতদিন বৈদ্যুতিক যানবাহন (Electric Vehicles), বিশেষ করে বাসগুলি চার্জ করার জন্য ভারী ও বড় আকারের তারের প্রয়োজন হতো। আর এই চার্জারগুলি দিয়ে চার্জ সম্পূর্ণ করতে প্রায়শই কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যেত। এই সমস্যার সমাধান করতে, সুইজারল্যান্ডের স্বনামধন্য ইটিএইচ জুরিখ (ETH Zurich)-এর স্পিন-অফ কোম্পানি, উইন্ডাকশন (Winduction) একটি ওয়্যারলেস চার্জিং (Wireless Charging) প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে, যা বাসকে সরাসরি তার চাকা থেকেই চার্জ করার সুযোগ দেয়। আসুন এই অভিনব প্রযুক্তিটির সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
ইলেকট্রিক বাসের জন্য এল বিশেষ ওয়্যারলেস চার্জিং সিস্টেম
যাত্রী ওঠা-নামার সাথে সাথে এই সিস্টেমটি সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং আশ্চর্যজনকভাবে ৯০% পর্যন্ত কার্যকারিতাও প্রদান করে। যদি এই প্রযুক্তিটি ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়, তাহলে এই প্রযুক্তি বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং গণপরিবহন ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে। সাধারণত গাড়ি বা বাসকে ওয়্যারলেসভাবে চার্জ করার ক্ষেত্রে, রাস্তায় লাগানো প্লেট ও গাড়ির মধ্যে বেশ কিছুটা দূরত্ব থাকে। এতে শক্তি স্থানান্তরের গতি কমে যায়।
এই দূরত্ব কমানোর জন্য, উইন্ডাকশন সরাসরি বাসের টায়ারের ভেতরে চার্জিং কয়েল স্থাপন করেছে। এর ফলে চার্জিং প্লেট ও কয়েলের মধ্যকার দূরত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এই অনন্য প্রযুক্তি চার্জিং প্লেটকে গ্রিডের সাথে সংযুক্ত করে ও একটি ম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি করে। বাসটি প্লেটের ওপর থামার সাথে সাথেই, টায়ারের ভেতরের কয়েলগুলো সরাসরি ব্যাটারিতে শক্তি স্থানান্তর শুরু করে দেয়। এই প্রযুক্তির সুবিধা হলো, বাসের চাকাগুলো সব সময় বিদ্যুৎ-পরিবাহী প্লেটের সংস্পর্শে থাকে। এর ফলে ১০%-এরও কম শক্তি অপচয় হয়।
আরও পড়ুন: ফিরে আসছে অরকুট? প্রতিষ্ঠাতা বুয়ুককোকতেনের চিঠি ফেরাল নস্টালজিয়া
কী কী সুবিধা মিলবে এই প্রযুক্তিতে?
সাধারণ টায়ারগুলোকে মজবুত করার জন্য এতে স্টিলের বেল্ট ব্যবহার করা হয়। ফলে এগুলো ওয়্যারলেস প্রযুক্তির সাথে কাজ করার উপযুক্ত নয়। এই প্রতিবন্ধকতাটিকে কাটিয়ে উঠতে, কোম্পানিটি এক নতুন ধরনের স্টিল-মুক্ত টায়ার তৈরি করেছে। এই টায়ারগুলোর ফলে বাসটিকে ওয়্যারলেসভাবে চার্জ করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও, চলন্ত অবস্থায় চার্জ করার সুবিধার কারণে বাসগুলোতে ভারী ব্যাটারি লাগানোর প্রয়োজন হয় না। এছাড়া, ছোট আকারের ব্যাটারি কেনার খরচ ও ওজন কমাবে এবং যাত্রীদের জন্য আরও বেশি জায়গা তৈরি করবে।
এই প্রযুক্তিটি জুরিখ এয়ারপোর্ট এবং জুরিখ ওয়েরলিকনের মধ্যে ২৪টি স্টপের একটি রুটে পরীক্ষা করা হয়েছিল। পুরো রুটে বাসটিকে মাত্র দুইবারই চার্জ করতে হয়েছিল। দিনে ১৬ ঘণ্টা চললে বাসগুলোকে তিন ঘণ্টার ব্যবধানে চার্জ করা যেতে পারে, যা ডিপোতে সারারাত ধরে একটানা পাঁচ ঘণ্টা চার্জ করার ঝামেলা দূর করে। এটি পাওয়ার গ্রিডের ওপর চাপ কমায়। সবকিছু ঠিকঠাক চললে, ২০২৮ সালে এই প্রযুক্তিটিকে গণপরিবহনে পরীক্ষা করা শুরু হতে পারে।










