এবার পুরুষ অন্নপূর্ণা! মেয়ের বদলে বাবার অ্যাকাউন্টে ঢুকল ৩০০০ টাকা

Published:

Annapurna Bhandar

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পুরুষ লক্ষ্মীর পর এবার বাবা অন্নপূর্ণা! মেয়ের বদলে বাবার অ্যাকাউন্টেই ঢুকল অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের (Annapurna Bhandar) কড়কড়ে ৩০০০ টাকা, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়। ঘটনাটি ঘটেছে নদীয়ার (Nadia) ভীমপুর থানার চাঁদপুরে। সঞ্জিত বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টেই জমা পড়েছে ভাতার টাকা। মেয়ে শেফালী বিশ্বাস, যিনি এতদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেয়ে আসতেন। তবে নতুন করে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে নাম ট্রান্সফার করার পরেই বাবার অ্যাকাউন্টে ঢুকল এই প্রকল্পের টাকা।

কীভাবে এই গরমিল?

প্রসঙ্গত, নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগর ২ ব্লকেই লক্ষীর ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রায় ১৭৩ জনের হদিশ মিলেছিল যারা ছেলে হয়েও ভাতা পাচ্ছিলেন। আর সেই একই ব্লকে এই ঘটনা ঘটায় আবারও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। জানা যাচ্ছে, সঞ্জিতবাবুর আধার নম্বরের সঙ্গে তাঁর মেয়ে শেফালী বিশ্বাসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট লিংক করা ছিল। এতেই বাঁধে বিপত্তি। কারণ, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা সরাসরি ডিবিটি ট্রান্সফারের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, আধার নম্বর সঙ্গে যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট লিংক করা সেই অ্যাকাউন্টে ঢুকবে টাকা। লক্ষীর ভাণ্ডারের ক্ষেত্রে যেহেতু এনএফটি-র মাধ্যমে টাকা দেওয়া হতো, তাই মেয়ের অ্যাকাউন্টেই টাকা পৌঁছত।

জানা গিয়েছে, যখন ডিবিটি লিংক চালু করা হয়, তখন মেয়ের আধার কার্ডের সঙ্গেই সঞ্জিতবাবুর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সরাসরি লিংক হয়ে যায়। যার কারণে বাবার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকে। এমনকি সেই টাকা উইথড্রোলের অবস্থাও করছে রাজ্য সরকার। এদিন বার্ধক্য ভাতা টাকা তুলতে স্থানীয় গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রে গিয়েছিলেন সঞ্জিতবাবু। সেখানে ব্যালেন্স চেক করতে গিয়েই তাঁর চক্ষু চড়ক গাছে ওঠে। জানা যায়, তাঁর অ্যাকাউন্টে আগে থেকে ৭৯৯ টাকা জমা ছিল। তবে দু’মাসের বার্ধক্য ভাতা দিয়ে মোট ব্যালেন্স হত ২৭৯৯ টাকা। কিন্তু তিনি যখন ব্যালেন্স চেক করেন, তখন দেখায় ৫৭৯৯ টাকা।

আরও পড়ুন: বহরমপুরের সাংসদ পদ ছাড়তে বলেছেন মমতা? অবশেষে জানিয়ে দিলেন ইউসুফ পাঠান

অতিরিক্ত ৩০০০ টাকা কোথা থেকে এল তা ভেবে পান না সঞ্জিতবাবু। তারপর ট্রানজেকশন চেক করে জানা যায় যে, মেয়ের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ৩০০০ টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে ঢোকানো হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই বিডিও অফিসের প্রতিনিধিরা সঞ্জিতবাবুর বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। এমনকি তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে সেই টাকা তুলে নেওয়ার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। আর ভবিষ্যতে যাতে মেয়ের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকে সেই তোড়জোড় শুরু হয়েছে।