প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ফের আরও এক শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠল কলকাতায়! তবে এই ঘটনায় কোনও পাড়ার প্রতিবেশী, বন্ধু, পরিচিত বা অপরিচিত জড়িত নয়, বরং নির্যাতনকারী হিসেবে উঠে এল এক পুলিশ কর্মী। জানা গিয়েছে, কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police Officer) এক অফিসারের নির্যাতনের শিকার হলেন এক পরিচারিকা। অভিযোগ বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে চলে অত্যাচার। তাই এবার সেই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে ইমেইল মারফত ওই অফিসারের বিরুদ্ধে কসবা থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন পরিচারিকা।
ঠিক কী ঘটেছিল?
জি ২৪ ঘণ্টার রিপোর্ট অনুযায়ী, নির্যাতিতা তরুণী সোনারপুর থানা এলাকার বাসিন্দা। তিনি কলকাতার একটি আয়া সেন্টারের মাধ্যমে কসবা থানা এলাকার ওই কলকাতা পুলিশ অফিসারের বাড়িতে রান্নার কাজে গিয়েছিলেন। নিয়মমাফিক নিত্যদিন রান্নার কাজে যেতেন তিনি। আর ওই রান্নার কাজ করতে গিয়েই তিনি পুলিশ অফিসারের কুনজরে পড়েন। তরুণীর অভিযোগ, বাড়ির অন্য সদস্যরা বাইরে চলে যাওয়ার পর অভিযুক্ত পুলিশ অফিসার পেছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরেন এবং তাঁর সম্মানহানির চেষ্টা করেন। প্রথমদিকে এর প্রতিবাদ করলে তাঁকে চোরের অপবাদ দেওয়া হয়। জোর করে সাদা কাগজে কিছু লিখিয়েও নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
কী বলছেন নির্যাতিতা?
নির্যাতিতা তরুণী জানিয়েছেন, “আমি ঘর ঝাঁট দিচ্ছিলাম। উনি পিছন থেকে এসে জড়িয়ে ধরেন। আমার সম্মান নিয়ে টানাটানি করেন। তখন আমি ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে উনি আমাকে হুমকি দেন। আমাকে চোর অপবাদ দেয়। আমি সেন্টারের দাদাকে ফোন করে ডাকি। সেন্টারের দাদা আসেন। আর উনি লিখিয়ে নেন, আমি আর কোনওদিন চুরি করব না। এদিকে পরের দিন ওই অফিসারের বৌমা ফোন করে বলেন, আমি নাকি বাড়ি থেকে সোনা-দানা চুরি করে এনেছি।” এই ঘটনার পর রীতিমত মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন নির্যাতিতা। কিন্তু ভয়ে তিনি থানায়ও যেতে পারেননি। তাই তিনি ইমেইল মারফত কসবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আরও পড়ুন: ১৩টি CNG, ১৮টি AC মিডি থেকে ৬টি ভলভো স্লিপার বাস চালু হচ্ছে বাংলায়, কোন কোন রুটে?
প্রসঙ্গত, রাজ্য জুড়ে প্রতিনিয়ত মেয়েদের সম্মানহানির একাধিক অভিযোগ উঠে আসছে। এককথায় সমাজ উন্নত হলেও মেয়েদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অনেকটাই পিছিয়ে গিয়েছে। যার ফলে এখনও মেয়েরা লাঞ্ছিত এবং বঞ্চিত। এই অবস্থায় সমাজরক্ষক পুলিশও নরপিশাচের ভূমিকা নিচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই তাই এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এলাকাবাসী পুরো ঘটনার তদন্তের দাবি করছে।












