সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দিল্লির পর এবার বাংলাতেও মদ কেলেঙ্কারি (Liquor Scam in Bengal)। যার পিছনে নাকি হাত তৃণমূল কংগ্রেসের সৈনিক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)! রাজ্যের আফগারি দফতরের এক গোপন রিপোর্ট ঘিরে এবার শুরু হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। অভিযোগ, ২০১৭ সালে পশ্চিমবঙ্গে মদের ব্যবসার নীতিতে বিরাট পরিবর্তন এনে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে নিয়ন্ত্রণ তুলে দিয়েছিলেন অভিষেক। আর সেই পরিবর্তনের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন আর দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে।
প্রকাশ্যে আসা একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্যে আগে বেসরকারি পাইকারি ব্যবসায়ী সংস্থাগুলি বিদেশি মদ বা বিয়ার সরবরাহের দায়িত্বে ছিল। মোট ৫৫টি লাইসেন্স প্রাপ্ত ট্রেড সংস্থা নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করেই এই ব্যবসা চালাত। যার ফলে বাজারে স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা বজায় থাকত আর ক্ষুদ্র বিক্রেতারাও একাধিক সরবরাহকারীর মধ্যে পছন্দ মতো বেছে নেওয়ার সুযোগ পেত। তবে সেসব বদলে যায় ২০১৭ তেই।
মদের নীতিতে আমূল বদল
অভিযোগ ওঠে, ২০১৭ সালের নতুন আফগারি নীতি আনার পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। তৈরি করা হয় ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট বেভারেজ কর্পোরেশন লিমিটেড নামের একটি বেসরকারি সংস্থা। আর তারপর থেকেই মদের পাইকারি ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ এই সংস্থার হাতে চলে যায়। দ্য স্টেটম্যানের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই নতুন ব্যবস্থার ফলে আগের প্রতিযোগিতামূলক বাজার ভেঙে গিয়ে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ আসে। অভিযোগ, এই কাঠামোর মাধ্যমে নতুন কিছু ডিস্ট্রিবিউটরকে সামনে এনে মদ প্রস্তুতকারী সংস্থা এবং বোতলজাতকারী কোম্পানিগুলোর উপরে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা হয়।
এমনকি রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে যে, প্রতি মদের ক্রেটের উপরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হতো গুদাম ভাড়া এবং পরিবহন খরচের নাম করে। আর এই অতিরিক্ত অর্থের একটি বৃহৎ অংশ রাজনৈতিক মহলে পৌঁছত, যার মাথায় ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রিপোর্টের দাবি, বোতলজাতকারী সংস্থাগুলিকে নির্দিষ্ট ডিস্ট্রিবিউটরদের মাধ্যমে ব্যবসা চালাতে বাধ্য করা হতো। আর কেউ আপত্তি করলে নানা রকম প্রশাসনিক চাপের মুখে পড়তে হতো। এমনকি কিছু কারখানার কাজও আটকে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।
এদিকে এই ঘটনায় সামনে এসেছে আইএফবি এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের একটি চিঠি। আবগারি কমিশনারকে পাঠানো চিঠিতে তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই কিছু আধিকারিকের বেআইনি চাপ এবং আর্থিক দাবির মুখে তাদের পড়তে হয়েছে। চিঠিতে সংস্থার তরফ থেকে বলা হয়েছে, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর তারা আশা করেছিল এই ধরনের কার্যকলাপ বন্ধ হবে। পাশাপাশি আগের অভিযোগগুলির তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় তাও বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাড়বে কনফার্ম তৎকাল টিকিট মেলার চ্যান্স, IRCTC অ্যাকাউন্টে করুন এই সেটিংসগুলো
কারা তৈরী করেছিলেন সেই নতুন নীতি
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের নতুন নীতি তৈরীর দায়িত্বে ছিলেন আবগারি এবং অর্থ দফতরের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। আর তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন কর্পোরেশন তৈরি করা হয়। গোপন রিপোর্টে অভিযোগ করা হচ্ছে, আগে নিরাপদ রাজস্ব আদায়ের পদ্ধতি বদলে নতুন দুই স্তরের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। যার ফলে সরকারি কোষাগারে রাজস্ব পৌঁছতে দেরি হতো আর আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠত। সেই কারণে এবার রাজ্যের একাধিক মদ প্রস্তুতকারী ও বোতলজাতকারী সংস্থা একজোট হয়ে সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি তুলতে পারে বলেই অনুমান বিশেষজ্ঞদের। তাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর আর্থিক চাপের কারণে তাদের বিপুল পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। এখন দেখার রাজ্য সরকার এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়।










