বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বাসস্থানের প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে আধার কার্ড (Aadhaar Card) গ্রহণ করা যাবে। এক বেআইনি দখলদার মামলার রায় দিতে গিয়ে স্পষ্ট জানালো কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)।। হাইকোর্টের দুই বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং সুপ্রতিম ভট্টাচার্যর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, একজন ব্যক্তি কোন ঠিকানায় বসবাস করছেন অর্থাৎ তার বাসস্থানের প্রমাণ হিসেবে আধার কার্ড বিশ্বাসযোগ্য নথি। যদিও আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা গেলেও আধার কার্ড কিন্তু বাসস্থানের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।
আধার কার্ডকে বাসস্থানের প্রমাণ হিসেবে মান্যতা!
দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি আধার কার্ড তৈরি করলেও, বিগত দিনগুলিতে এই নথিটি নিয়ে তৈরি হয়েছে একাধিক বিতর্ক। এর আগে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়ে দিয়েছে আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রথম প্রমাণ নয়। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের তরফেও একাধিকবার উল্লেখ করা হয়েছে, আধার আইন অনুযায়ী এই নথি নাগরিকত্ব প্রমাণ করে না। এটি কেবল একজন ব্যক্তির পরিচয়পত্র মাত্র।
তবে আধার কার্ড বাসস্থানের প্রমাণ হতে পারে কিনা তা নিয়ে বেশ বিতর্ক ছিল। এবার তা নিয়েই কলকাতা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, আধার কার্ড ব্যক্তির বাসস্থান বা বসবাসের প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য। কারণ, ওই আধার কার্ড তৈরি করার সময় ব্যক্তির ঠিকানা যাচাই করেই নথিটি তৈরি হয়েছিল। ফলে, আধার কার্ডকে ব্যক্তির ঠিকানার প্রাথমিক তথ্য থেকে উপেক্ষা করা যায় না।
টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেআইনি দখলদার সংক্রান্ত মামলার রায় দিতে গিয়ে আদালত আরও জানায়, শুধুমাত্র আধার কার্ড নয় বরং একজন ব্যক্তির ভোটার কার্ড থেকে শুরু করে গ্যাসের বিল এমনকি ইলেকট্রিক বিলও ওই ব্যক্তির বাসস্থানের প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য। তবে হাইকোর্টের তরফে এও জানানো হয়েছে, আধার কার্ড প্রাথমিক প্রমাণ হলেও এই নথিকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা যায় না। কারণ চূড়ান্ত এবং প্রাথমিক দুই প্রমানের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে।
অবশ্যই পড়ুন: “আসল সত্যি …” ফাইনালে ম্যাচ ছাড়তে বাধ্য হয় আর্জেন্টিনা? প্রকাশ্যে বড় তথ্য
উল্লেখ্য, বেআইনিভাবে দখলের অভিযোগ ক্যালকাটা ডক লেবার বোর্ড ও ক্যালকাটা পোর্ট ট্রাস্ট-এর আবাসন ভাঙতে চাইছিল শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী পোর্ট কর্তৃপক্ষ। জানা গিয়ে, 500 এর বেশি আবাসন ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তারা। পরবর্তীতে আবাসিকরা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে অভিযোগ করেন, কোনও রকম নোটিস বা আগে থেকে বার্তা না দিয়েই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করতে চলেছেন তাঁরা। পরবর্তীতে আদালতের একক বেঞ্চ জানায়, আবাসিকরা কীভাবে ওই কোয়াটারগুলিতে এসেছেন তার স্পষ্ট প্রমাণ নেই। আধার কার্ড, ভোটার কার্ডের ভিত্তিতে তাঁদের বৈধ বলা যায় না। আর তারপরেই নিম্ন আদালতের রায় খারিজ করে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে মামলা দায়ের করেন আবাসিকরা।










