জানেন কোথায় হুইস্কির গ্লাসে বরফের বদলে মেশানো হয় মানুষের পায়ের আঙুল?

Published:

GK

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সাময়িক আনন্দ এবং বিনোদনের খোঁজে অনেকেই ভিড় জমাচ্ছে পানশালাগুলিতে। সপ্তাহান্তে এই ভিড় যেন বেশি চোখে পড়ে। কিন্তু কেউ যদি পানশালায় গিয়ে পছন্দের হুইস্কির সঙ্গে বরফ বা লেবুর বদলে গ্লাসের মধ্যে খুঁজে পায় মানুষের আস্ত একটি পায়ের আঙুল (Human Toe Whiskey), তাহলে ভাবতে পারছেন তাঁর কি অবস্থা হবে? কথাটা ভয়ংকর হলেও বাস্তবে কিন্তু সত্যিই এমন ঘটনা (GK) হয়। বিশ্বে এমন এক পানশালা রয়েছে যেখানে হুইস্কির সঙ্গে মানুষের আস্ত একটি পায়ের আঙুল দেওয়া হয়। চলুন সম্পূর্ণটা বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক আমাদের আজকের এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে।

হুইস্কির মধ্যে মানুষের পায়ের আঙুল!

মদ্যপান এবং ধূমপান স্বাস্থ্যের পক্ষে খারাপ জেনেও অনেকেই এই নেশা কিছুতেই ছাড়তে চায় না, আর সেটারই সুযোগ নিতে এলাকায় এলাকায় জাঁকিয়ে বসেছে একাধিক পানশালা। একেক জায়গায় ড্রিংক সার্ভ করার একেক নিয়ম। ঠিক তেমনই হুইস্কির সঙ্গে মানুষের আস্ত একটি পায়ের আঙুল মিশিয়ে দেওয়ার এই অদ্ভুত এবং ভিন্ন প্রথা মেনে হয় কানাডার ইউকন অঞ্চলের ডসন সিটির একটি বারে। সেখানে ‘সাওয়ারটো ককটেল’ নামে এই পানীয়ের সবচেয়ে বড় আকর্ষণই হল মানুষের পায়ের আঙুল। যা আজও বেশ বিখ্যাত।

মানতে হবে কঠোর নিয়ম

শোনা যায়, কানাডার এই বারে প্রথমে গিয়ে একটি শট কিনতে হয়। এরপর নিতে হয় বিশেষ ‘সাওয়ারটো ককটেল’। সেই ককটেলেই সংরক্ষিত মানুষের পায়ের আঙুলটি মিশিয়ে দেওয়া হয়। এই পানীয় খাওয়ার নিয়ম হল ককটেলটি চুমুক দেওয়ার সময় গ্লাসে থাকা আঙুলটি ঠোঁটে ছোঁয়াতেই হবে। অনেকে সেই নিয়ম পালনও করে। তবে আঙুলটি গিলে ফেলা চলবে না। শোনা যায় কয়েকজন নাকি সেই আঙুল নেশার বশে গিলেও ফেলেছিল তাতে মোটা জরিমানাও নেওয়া হয়েছিল। আসলে এর পিছনে লুকিয়ে আছে একটি অদ্ভুত কাহিনি। যা আজও মানুষের মনে ভয় ধরে রেখেছে।

আরও পড়ুন: জানেন কেন হোটেলের শ্যাম্পু, সাবান ও লোশনের বোতলগুলো ছোট হয়?

আসল কাহিনী কী?

বলা হয়, ১৯২০-এর দশকে লুই লিঙ্কেন নামে এক রাম পাচারকারী প্রবল তুষারঝড়ে পড়েছিলেন। বরফে তাঁর পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায় এবং পায়ের বুড়ো আঙুলে পচন ধরে। শেষে তাঁর ভাই ওই পায়ের আঙুল কেটে ফেলেন এবং স্মৃতি হিসেবে অ্যালকোহলের মধ্যে রেখে দেয়। পরে ১৯৭৩ সালে ক্যাপ্টেন ডিক স্টিভেনসন একটি পুরনো কেবিন পরিষ্কার করার সময় সেই সংরক্ষিত আঙুলটি খুঁজে পান। আর তখন থেকেই এই ‘সাওয়ারটো ককটেল’-এর ভাবনার উদ্ভব হয়।