অনন্যা সরকার, কলকাতা: ভক্তদের কাছে পুরীর জগন্নাথ ধাম (Puri Jagannath Temple) কেবল একটি তীর্থস্থানই নয়, বরং গভীর বিশ্বাস ও আবেগের পীঠস্থান। ভক্তরা মানেন, প্রভু জগন্নাথের কাছে প্রার্থনা করলে তা কখনও বিফলে যায় না। আর এই অটল ভক্তিই প্রতি বছর অসংখ্য মানুষকে পুরীতে টেনে আনে। ধর্মীয় দিকের পাশাপাশি, সৈকত শহর পুরী একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রও বটে। প্রতিবছর কোটি কোটি মানুষ এখানে ভ্রমণে আসেন। এই পর্যটন শিল্প বহু পরিবারের পেট ভরায়। তবে জানেন কি সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের সম্পত্তির পরিমাণ কত? এই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের মনে কৌতূহল ছিল। এবার মন্দির প্রশাসনের তরফে একটি বিবৃতিতে এসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। আসুন জেনে নেওয়া যাক।
পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রকাশ্যে এল
বুধবার শ্রী জগন্নাথ মন্দির প্রশাসন (SJTA) কর্তৃক প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে মন্দিরের সম্পত্তি সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সেই বিবৃতি অনুযায়ী, পুরী মন্দিরের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১,৯১২ কোটি টাকা জমা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন অংশে জগন্নাথ ধামের মালিকানাধীন ৬০,৮২১ একর জমির রয়েছে। এছাড়াও, মন্দিরের রত্ন ভান্ডারে রয়েছে সোনা, হীরে ও রুপোর অলংকার সহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী।
কোথায় কত টাকা জমা রয়েছে?
শ্রী জগন্নাথ মন্দির প্রশাসনের তরফে প্রকাশ করা বিবৃতি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিনটি পৃথক প্রকল্পে মন্দিরের ফিক্সড ডিপোজিটে ১,৮১১.১০ কোটি টাকা জমা রয়েছে। এর মধ্যে, ১,৩১১.১০ কোটি টাকা বিভিন্ন সরকারি ব্যাংকে জমা রয়েছে। বাকি ৫০০ কোটি টাকা ওড়িশা সরকারের দেওয়াএকটি কর্পাস ফান্ড, যা মন্দিরের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য রাখা আছে। এছাড়াও, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মন্দিরের বিভিন্ন সেভিংস, কারেন্ট এবং ফ্লেক্সিবল অ্যাকাউন্টে ১০০.৭১ কোটি টাকা জমা ছিল। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে জমা থাকা অর্থের মোট পরিমাণ প্রায় ১,৯১১.৮০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এই অর্থ মূলত আসে ভক্তদের অনুদান, মন্দিরের মালিকানাধীন খনি-খাদান, জমি, ফিক্সড ডিপোজিটের সুদ এবং সরকারি অনুদান থেকে।
আর পড়ুন: কয়েকশো কোটির সংস্থা ছেড়ে ভিক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিলেন এই ব্যবসায়ী, থাকবেন জঙ্গলে
জমির পরিমাণ সম্পর্কে বললে, সারাদেশে জগন্নাথ ধামের মালিকানায় মোট ৬০,৮২১ একর জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৬০,৪২৬ একর রয়েছে ওড়িশার ২৪টি জেলা জুড়ে। বাকি ৩৯৫ একর জমি পশ্চিমবঙ্গ সহ ছয়টি রাজ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। মন্দিরের সোনা, হীরে এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী কড়া নিরাপত্তার সাথে ঐতিহাসিক রত্ন ভান্ডারে রাখা থাকে। ২০২৪ সালে প্রায় ৪৬ বছর পর পুরীর জগন্নাথ ধামের বিপুল রত্নভান্ডারটি খোলা হয়। সে সময় ভান্ডারের ভিতরে বাইরে মেরামতি করা হলেও, এতে কি কি জমা রয়েছে সে সম্পর্কে মুখ খোলেননি মন্দির কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে মন্দির প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, রত্ন ভান্ডারে থাকা এই মূল্যবান সামগ্রীগুলির একটি ইনভেন্টরি বা তালিকা তৈরির কাজ চলছে।










