আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision) বা SIR-কে কেন্দ্র করে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালকে (Manoj Agarwal) নিয়ে করা মন্তব্যের জেরে এবার আইনি জটিলতায় তৃণমূল (Trinamool Congress) সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করে আলিপুর আদালতের (Alipore Court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন মনোজ আগরওয়াল। সেই মামলায় অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মহুয়ার সমাজমাধ্যমের দু’টি পোস্ট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট পোস্টগুলিতে থাকা অভিযোগের পুনরাবৃত্তি ঘটানো বা ফের একই ধরনের মানহানিকর মন্তব্য প্রকাশ করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
কী বলেছে আলিপুর আদালত?
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর ও ৬ অক্টোবর মহুয়া মৈত্রের এক্স (X) অ্যাকাউন্ট থেকে করা দু’টি পোস্টকে কেন্দ্র করেই এই মামলা। সেখানে মনোজ আগরওয়ালকে ‘ভোটচোর’ বলা হয়েছিল। পাশাপাশি, SIR-এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারকে বেআইনিভাবে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার জন্য তাঁকে প্রত্যক্ষভাবে দায়ী করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। আদালত জানিয়েছে, মনোজ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে ‘সব রকম বেআইনি কাজ করেছেন’ বা বৈধ ভোটারদের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে তিনিই বাদ দিয়েছেন, এমন অভিযোগেরও পুনরাবৃত্তি করা যাবে না।
তবে আদালতের এই নির্দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। SIR প্রক্রিয়া কিংবা কোনও সরকারি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করার ক্ষেত্রে মহুয়া মৈত্রকে আটকানো হয়নি। আদালত স্পষ্ট করেছে, এই নির্দেশের ফলে SIR বা সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে ন্যায্য সমালোচনার অধিকার খর্ব হবে না। অর্থাৎ বাক্স্বাধীনতার অধিকার তাঁর থেকে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে এমনটা কিন্তু নয়। তবে নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলায় অভিযোগের পুনরাবৃত্তি এবং সরকারি প্রক্রিয়ার সমালোচনাকে বরদাস্ত করা হবে না।
আরও পড়ুন: ভিক্ষায় জমানো ১৭ লক্ষ টাকা দান করলেন মন্দিরে, নজিরবিহীন জনসেবা ভিক্ষুকের
আদালতের নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পোস্টগুলি সরানো না হলে মনোজ আগরওয়াল এক্স কর্তৃপক্ষের কাছে আদালতের নির্দেশ পাঠাতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং সংশ্লিষ্ট বিধির অধীনে পোস্ট সরানোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ৫ জানুয়ারি ২০২৭। ফলে SIR-কে ঘিরে মহুয়া মৈত্র ও মনোজ আগরওয়ালের আইনি সংঘাত আগামী দিনে কোন পর্যায়ে পৌঁছয় সেইদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।










