২.৫৮ লক্ষ কোটি বিনিয়োগ, প্রচুর কর্মসংস্থান! বাংলায় তৈরি হচ্ছে ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন কেন্দ্র

Published:

Electronics Manufacturing Hub

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দেশজুড়ে দ্রুত বাড়ছে ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন শিল্প। আর সেই দৌড়ে এবার নাম লেখাল পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal)। কেন্দ্রের মডিফাইড ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং ক্লাসটার ২.০ (Modified Electronics Manufacturing Cluster 2.0) প্রকল্পকে হাতিয়ার বানিয়ে রাজ্যে বড়সড় ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন কেন্দ্র (Electronics Manufacturing Hub) গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যার বিনিয়োগ মূল্য হতে পারে ২.৫৮ লক্ষ কোটি টাকা। আর এই উদ্যোগ সফল হলে মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রাংশ এবং কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন পশ্চিমবঙ্গে এবার নতুন শিল্প সম্ভাবনার দরজা খুলবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থানও অনেকটাই বাড়বে।

নৈহাটি ও ফলতার উপর জোর দিচ্ছে রাজ্য

সরকারি সূত্র অনুযায়ী খবর, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার নৈহাটি এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা এই দুই শিল্পাঞ্চলকে এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নৈহাটিতে রয়েছে প্রায় ৭০ একর জমির ক্লাস্টার। আর ফলতায় রয়েছে আনুমানিক ৫৮ একর শিল্পাঞ্চল। এই দুই জায়গাই আগে ইএমসি ১.০ প্রকল্পে আওতায় তৈরি হয়েছিল। এমনকি কলকাতার কাছাকাছি হওয়া, বন্দর সুবিধা এবং ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এই অঞ্চলগুলিকে ভবিষ্যতে ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, রাজ্য সরকার এই শিল্পাঞ্চলগুলোতে আধুনিক পরিকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা করছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল প্লাগ-এন্ড-প্লে ফ্যাক্টরি শেড, পরীক্ষা ও সার্টিফিকেশন কেন্দ্র, উন্নত লজিস্টিক সাপোর্ট এবং কম্পোনেন্ট উৎপাদন সুবিধা। আর এগুলি তৈরি হলে দেশ-বিদেশের ইলেকট্রনিক্স সংস্থাগুলিকে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে বলেই অনুমান বিশেষজ্ঞদের।

জানিয়ে দিই, কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রক ২০২০ সালে ইএমসি ২.০ প্রকল্প চালু করেছিল। যার মূল লক্ষ্য হল দেশে বিশ্বমানের ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন অবকাঠামো গড়ে তোলা। এমনকি এই প্রকল্পের আওতায় মোট প্রকল্প খরচের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাওয়া যাবে, প্রতি ১০০ একরের জন্য সর্বোচ্চ ৭০ কোটি টাকা পর্যন্ত সাহায্য মিলতে পারে, এমনকি একটি প্রকল্পে সর্বাধিক ৩৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়াও কমন ফ্যাসিলিটি সেন্টারের জন্য ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাওয়া যাবে। তবে এই প্রকল্পের মেয়াদ রাখা হয়েছে ২০২৮ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত।

আরও পড়ুন: আনলিমিটেড 5G আর পাওয়া যাবে না ফ্রি? Jio, Airtel ও Vi বদলাতে পারে রিচার্জ প্ল্যান

দেশব্যাপী ইলেকট্রনিক্স বাজারে বড় প্রতিযোগিতা

বলে রাখি, বর্তমানে তামিলনাড়ু, কর্নাটক এবং উত্তরপ্রদেশ ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনে অনেকটাই এগিয়ে। বিশেষ করে মোবাইল ফোন এবং ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রাংশ তৈরিতে রাজ্যগুলি বিনিয়োগ টানছে। আর এবার পশ্চিমবঙ্গ সেই প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নতুন শিল্প বিনিয়োগ বাড়বে। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, ছোট এবং মাঝারি শিল্পগুলিও উপকৃত হবে আর রাজ্যের শিল্প কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে। সূত্রের খবর, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের কাছে আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করেছে। সেই অনুমোদন পেলেই পরবর্তী ধাপে কাজ এগোবে।