সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: কেন্দ্রের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের (Government of West Bengal) তরফ থেকে চালু করা একাধিক স্কলারশিপ রাজ্যের পিছিয়ে পড়া অভাবী অথচ মেধাবী পড়ুয়াদের আর্থিক সহায়তা করে থাকে। ঠিক তেমনই একটি স্কলারশিপ হল শিক্ষাশ্রী এবং মেধাশ্রী (Sikshashree And Medhashree Scholarship), যেটি তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে চালু করা হয়েছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন যে, আগের সরকারের চালু করা কোনও প্রকল্প বন্ধ হবে না। সেই কারণে এটি আগের মতোই চলবে। ইতিমধ্যেই এই স্কলারশিপে আবেদন শুরু হয়েছে। কারা আবেদন করতে পারবেন, কীভাবে আবেদন করবেন, কী কী যোগ্যতা লাগবে বিস্তারিত জানুন এই প্রতিবেদনে।
শিক্ষাশ্রী প্রকল্প কাদের জন্য?
শিক্ষার্থী প্রকল্প শুধুমাত্র অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ এবং আদিবাসী উন্নয়ন বিভাগের আওতায় পঠরত পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণীর এসসি এবং এসটি পড়ুয়াদের জন্যই। আর এই স্কলারশিপের আওতায় বছরে ৮০০ টাকা মেলে, যা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়, এবং এখানে স্কুলের তরফ থেকেই আবেদন গ্রহণ করা হয় অফলাইনের মাধ্যমে।
মেধাশ্রী স্কলারশিপ কাদের জন্য?
অন্যদিকে মেধাশ্রী প্রকল্প শুধুমাত্র অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ বিভাগের তরফ থেকে চালু করা পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণীর ওবিসি পড়ুয়াদের জন্যই। এখানেও বছরে ৮০০ টাকা করে মেলে, যা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। আর এই স্কলারশিপেও স্কুলের মাধ্যমে অফলাইনে আবেদন করতে হয়।
কারা যোগ্য এই স্কলারশিপের জন্য?
শিক্ষাশ্রী এবং মেধাশ্রী স্কলারশিপ আবেদন করতে গেলে অবশ্যই আবেদনকারীকে কিছু যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। সেগুলি হল—
- আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
- আবেদনকারীকে যে কোনও সরকার স্বীকৃত বা সরকারি বিদ্যালয়ে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণীর মধ্যে পাঠরত হতে হবে।
- আবেদনকারীর পরিবারের বার্ষিক আড়াই লক্ষ টাকার মধ্যে আয় হতে হবে।
- আবেদনকারীর এসসি, এসটি বা ওবিসি কাস্ট সার্টিফিকেট থাকতে হবে।
আরও পড়ুন: যোগদিবস উপলক্ষ্যে আগামীকাল কলকাতায় বিশেষ ম্যারাথন রেস, ঘোষণা রাজ্য সরকারের
কীভাবে করবেন আবেদন?
এই স্কলারশিপে সম্পূর্ণ অফলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়, এবং বিদ্যালয় থেকেই আবেদন করা যায়। এর জন্য অন্য কোথাও যাওয়া লাগে। প্রথমে ছাত্র-ছাত্রীদের নিজের স্কুল থেকে স্কলারশিপের ফর্ম সংগ্রহ করতে হয়। তারপর সেটি সঠিকভাবে পূরণ করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংযুক্ত করে স্কুলের শিক্ষকের কাছে জমা দিতে হয়। তারপর তা ভেরিফাই করা হলেই প্রতি বছরে পাওয়া যায় সুবিধা।
তবে অবশ্যই আবেদনপত্রের সঙ্গে কিছু ডকুমেন্ট দরকার পড়ে। সেগুলি হল—
- আবেদনকারীর আধার কার্ডের জেরক্স,
- কাস্ট সার্টিফিকেটের জেরক্স,
- ব্যাংক অ্যাকাউন্টের প্রথম পাতার জেরক্স,
- পরিবারের বার্ষিক আয়ের সার্টিফিকেট,
- বৈধ মোবাইল নম্বর এবং ইমেল আইডি,
- পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।










