রেশন কার্ড নিয়ে কড়া পদক্ষেপ, কাদের নাম কাটা পড়বে? জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

Published:

Ration Card

অনন্যা সরকার, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের কোটি কোটি রেশন (Ration Card) গ্রাহকদের জন্য বড় ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ভুয়ো রেশন কার্ড নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন। প্রশাসনিক কর্তাদের সতর্ক করে শুভেন্দু বলেন, রেশন কার্ড ‘ক্লিন’ করতে হবে এবং ভুয়ো রেশন কার্ডগুলিকে নিশ্চিতভাবে বাদ দিতে হবে। এর পাশাপাশি সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, যারা রেশন পাওয়ার যোগ্য নয় তারা যেন কোনভাবেই পরিষেবা না পান, সেটা প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে।

রেশন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশিকা 

নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক কর্তাদের বৈঠকে রেশন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করার জন্য কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান বলেছে,  পশ্চিমবঙ্গে  মোট ৮ কোটি ৬৭ লক্ষ ১৩ হাজার ৪৩২ জন মানুষ রেশন কার্ডের মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী পান। খাদ্য দপ্তর এই সমস্ত উপভোক্তাকে AAY, PHH, SPHH এবং RKSY-এর মতো বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে বরাদ্দ মতো রেশন দিয়ে থাকে। গত এক বছরেই পরিসংখ্যানে পরিবর্তন এসেছে। তবুও রাজ্যের বহু মানুষ রেশনের সুবিধা পান। কিন্তু এই সুবিধাভোগীদের মধ্যে বহু রেশন কার্ড গ্রাহক রয়েছে বলে অভিযোগ। 

জানিয়ে রাখি, খাদ্য দপ্তর ইতিমধ্যেই ভুয়ো রেশন কার্ড শনাক্ত করার জন্য তৎপর হয়েছে। প্রথমেই দেখা হচ্ছে ১৮ বছর বয়সের পর আবেদন করা রেশন কার্ডগুলি। কেননা সাধারণক্ষেত্রে শিশুর ৫ বছর বয়স হলেই রেশন কার্ডের জন্য আবেদন করা হয়। তাই দীর্ঘদিন রাজ্যের বাইরে থাকা বা অন্য কোনও সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া ১৮ বছর বয়সের পর আবেদন করা রেশন কার্ডগুলি এখন খাদ্য দপ্তরের নজরদারিতে রয়েছে।

রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া জানান, এই ধরনের রেশন কার্ড গ্রাহকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এখন রাজ্যে আইনের শাসন চলছে, তাই অযোগ্যদের কোনো সুবিধা দেওয়া হবে না। এছাড়াও তিনি জানিয়েছেন, কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, নদিয়া, মালদহ, কোচবিহার, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুরে প্রথম দফার যাচাইকরণের প্রক্রিয়া চলবে। প্রসঙ্গত, এরমধ্যে কলকাতা ছাড়া বাকি সব জেলাগুলোই বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন।

আরও পড়ুনঃ কাটোয়া সহ একাধিক স্টেশনে বসছে লিফ্ট-এস্কেলেটর, হাওড়া ডিভিশনের জন্য বড় ঘোষণা রেলের

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাজ্য কেন্দ্রীয় সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে অযোগ্য ব্যক্তিদের বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ভুয়োদের বাদ দিলে যে টাকা বাঁচবে তাতে অন্য প্রকল্প আনতে সুবিধা হবে বলেও জানান শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি রাজস্ব কোনোভাবেই যাতে নষ্ট না হয়, সেটা দেখা প্রশাসনের কর্তব্য বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।