সৌভিক মুখার্জী, চুঁচুড়া: ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে, শুরু হয়েছে বাংলা ও বাঙালির শ্রেষ্ঠ দুর্গোৎসব (Durga Puja 2026)। গৌরী ঘরে আসতেই চারিদিকে এক খুশির আমেজ। তবে এই খুশির মধ্যেও রয়েছে মন খারাপের সুর। এবছরও অনেকেরই হয়ত নতুন পোশাক হয়নি। তবে এই মন খারাপ কিছুটা ভালো করছে বাংলার বর্তমান শাসক দল BJP। ২০২৬-এ পালাবদল ও ক্ষমতায় আসার পর এবার বিজেপি সরকারের প্রথম দুর্গাপুজো। চারিদিকে রয়েছে হইহই রব। সরকারের তরফে পুজো কমিটিগুলোকে ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য ও বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। এবং বিজেপি বিধায়ক ও সংগঠনের তরফ থেকে রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রেই বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান করা হয়েছে, যাতে গরিব ও অভাবী মানুষরাও পুজোয় নতুন পোশাক পান।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন যে, এ বছর বাংলায় ১২ হাজার নতুন পুজো হচ্ছে। তিনি এও জানিয়েছিলেন যে, পুজোর আয়োজনে কোনও খামতি রাখা হয়নি। সরকার থেকে প্রশাসন প্রতিটি পুজো কমিটির পাশে আছে।
এছাড়াও বিজেপি সরকার আসার পরে রাজ্যের মহিলারা অন্নপূর্ণা যোজনার মাধ্যমে ৩০০০ টাকা করে প্রতিমাসে আর্থিক সাহায্য পাচ্ছেন। আর অনেক এলাকার মহিলারাই সেই ৩০০০ টাকা জমিয়ে এবার নিজের পাড়ায় প্রথমবার দুর্গাপুজো করছেন। সবে মিলিয়ে বাঙালিরা যে এবারের দুর্গাপুজোয় মেতে উঠেছেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
চুঁচুড়ায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুজোর পোশাক বিতরণ বিজেপির
আর এসবের মধ্যে হুগলি জেলার চুঁচুড়া বিধানসভায় দেখা গেল এক ভিন্ন চিত্র, যেখানে রাজ্যের বিধায়করা মঞ্চ করে গরিব ও অভাবী মানুষদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করছেন। সেখানে বিজেপি চুঁচুড়া মণ্ডল ২ এর তরফ থেকে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হাতে বস্ত্র তুলে দেওয়া হচ্ছে। হুগলি সাংগঠনিক জেলার চুঁচুড়া মণ্ডল ২-র বিজেপির মণ্ডল সভাপতি তপন সরকারের নেতৃত্বে এই মহৎ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ৪ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস লড়াই! মাঝ আকাশে মৃত্যুর মুখ থেকে যাত্রীকে বাঁচালেন বাঙালি চিকিৎসক
চুঁচুড়া মণ্ডল ২-র বিজেপির মণ্ডল সভাপতি তপন সরকার, মণ্ডল সহ-সভাপতি বৈশাখী মণ্ডল, শক্তিকেন্দ্র প্রমুখ সুখেন পাল ও বাকি কর্মীরা পঞ্চমীর দিন চুঁচুড়া পুরসভার ৩ নং ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের হাতে পুজোর নতুন পোশাক তুলে দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, মঞ্চ করতে কিছু টাকা খরচ হবে, এই খরচ বাঁচিয়ে সেটা দিয়ে আরও কিছু পোশাক কিনে আমরা আরও বেশি মানুষের হাতে পুজোর উপহার তুলে দিতে পারব। এবং এরা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে আমাদের ভোট দিয়ে এসেছেন, আমরা তাঁদের জন্য এটুকু তো করতেই পারি।
অভিনব উদ্যোগে বেজায় খুশি জনগণ
বিজেপির নেতা, কর্মীদের এই উদ্যোগে খুশি নতুন পোশাক পাওয়া মানুষরাও। তাঁদের বক্তব্য, বাড়ির কাজ ফেলে বস্ত্র বিতরণে গিয়ে অনেকক্ষণ বসে থাকতে হয়। পদাধিকাররা আসেন, তাঁরা নিজের বক্তব্য দেন, তারপর পোশাক আসে আমাদের হাতে। এতে অনেক সময় ৩-৪ ঘণ্টাও লেগে যায়। কিন্তু এবার বাড়িতে বসে বসেই নতুন পোশাক পেয়েছি। কোনও অপেক্ষা করতে হয়নি। আমরা এই উদ্যোগে খুব খুশি এবং যারা এই কাজ করেছেন, তাঁদেরও দু’হাত তুলে আশীর্বাদ করছি।










