প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: চোরবাগানের (Chorbagan Sarbojanin Incident) পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে ফের শুরু হল নতুন বিতর্ক। সোশ্যাল মিডিয়ায় দুর্ঘটনার ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে কোচবিহারে (Cooch Behar) এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫৩(২) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। ধৃত এই ব্যক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের কোনও যোগ রয়েছে কিনা সেই নিয়েও চলছে তদন্ত। অন্যদিকে ঘটনার ( Chorbagan stampede) দিন রাতে প্যান্ডেল ভেঙে যাওয়া নিয়ে কে বা কারা ভুয়ো ঘোষণা করল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
কোচবিহার থেকে গ্রেপ্তার ১
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী গতকাল অর্থাৎ সোমবার সন্ধ্যায় এসিপি ক্রাইম বিভাগের কুণাল আগরওয়াল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন যে, “চোরবাগান বিপর্যয়ে ৬০ জন মৃত বলে গুজব রটানো হচ্ছে। আসলে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। চোরবাগানে দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো তথ্য ও পুরনো ভিডিয়ো ছড়ানোর অভিযোগে কোচবিহার থেকে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত আইনুল হক, কোচবিহারের বাসিন্দা। তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মণ্ডপের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
মৃতদের চোখ চুরি নিয়ে ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ
জানা গিয়েছে, চোরবাগানকাণ্ডে ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে কোচবিহারের ধৃত যুবক আইনুল হকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫৩(২) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। তিনি সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে দাবি করেছিলেন যে, চোরবাগানের পদপিষ্টের ঘটনায় মৃতদের চোখ চুরি করে নেওয়া হয়েছে। ভিডিওতে এক মহিলাকে সংবাদমাধ্যমের সামনে অভিযোগ জানাতে দেখা যায়। কিন্তু পরে দেখা যায়, ভিডিওটি চোরবাগানের নয়, বরং ২০২৫ সালে বারাসত মেডিকেলে এক যুবকের মৃত্যুর পরের ঘটনা। সেই সময় মৃত যুবকের পরিবারের তরফে চোখ চুরির অভিযোগ তোলা হয়েছিল। আর সেই পুরনো ভিডিওকেই চোরবাগানের দুর্ঘটনায় মৃতের পরিবারের বক্তব্য বলে প্রচার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: নবমীতে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড বাঘাযতীন বাজারে, ঘটনাস্থলে দমকলের ১৫ ইঞ্জিন
পুলিশ কমিশনার কুণাল আগরওয়াল জানিয়েছেন যে, “আইনুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) একটি দল কোচবিহারে যাচ্ছে। তাঁর পরিচয়পত্র-সহ অন্যান্য নথিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের প্রয়োজনে তাঁকে কলকাতা পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হতে পারে।” এছাড়াও তিনি সাংবাদিক বৈঠকে আরো জানান যে, “দুর্ঘটনার সময় বৃষ্টি হওয়ায় দর্শনার্থীদের ভিড়ে জায়গাটা ‘ব্লক’ হয়ে যায়। আর তখনই প্যান্ডেল ভেঙে পড়ছে বলে মাইকিং চলছিল। এতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। কিন্তু বিপর্যস্ত মণ্ডপে ভাঙার চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তাই কে বা কারা মাইকিং করেছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” আপাতত ৩০টি সিসিটিভির মধ্যে ১৩টি সিসিটিভি ফুটেজ তাঁরা পেয়েছেন।










