‘পুলিশকেও ফল ভুগতে হবে’, গণধর্ষণ কাণ্ডে মঙ্গলবারই বারুইপুর যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী

Published:

Baruipur Rape Case

সৌভিক মুখার্জী, বারুইপুর: আরজি করের পর বারুইপুর। গণধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় তোলপাড় গোটা রাজ্য-রাজনীতি (Baruipur Rape Case)। ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছে অভিযুক্তরা। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, দোষীদের সর্বোচ্চ সাজা দিতে রাজ্য সরকারের যা করণীয় তা করবে। এমনকি নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে নিজেই কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একই সঙ্গে আবার গোলমাল বা গণপিটুনির ঘটনায় যে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, তার সঙ্গে জড়িত কোনও অভিযুক্তকেও রেয়াত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর। সেই সূত্রে মঙ্গলবার বারুইপুর যাচ্ছেন তিনি।

বারুইপুর কাণ্ডে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

সোমবার সকালে মূল অভিযুক্ত ধরা পড়ার আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে কথা হয়েছে। বাবা যা যা চেয়েছেন সব করবে মুখ্যমন্ত্রী। আমি খুশি যে ওঁরা আস্থা রেখেছেন। পরিবারের তরফ থেকে চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আর দু’জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনজনকে আটক করা হয়েছে, যাদের সঙ্গে পলাতক দুইজনেরও কথোপকথন হয়েছে। কিন্তু বারুইপুরে গোলমালের যে ঘটনা ঘটেছে সেখান থেকে কাউকে রেয়াত করা হবে না। বাকি যারা অতৃপ্ত আত্মা হয়ে রয়েছেন, যারা ভোটে হেরে ঘরে ঢুকে গিয়েছিলেন, এখনও ঘরে রয়েছেন, তিনজন মিলে যে তিনটি কাণ্ড করেছেন তাদেরকেও ভুগতে ভাবে ফল।”

প্রসঙ্গত, বারুইপুরে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৬ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে রাজ্য পুলিশ। আজ মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারকে বারুইপুর বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ফলে মোট গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩। যদিও পরিবারের দাবি, ৪ জন যুক্ত ছিল এই ঘটনায়। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভবানীভবনে নির্যাতিতার বাবাকে ডেকেও পাঠিয়েছেন বলে খবর। এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যে আবার মঙ্গলবার বারুইপুর পুলিশ সুপারের দফতরে যাবেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য, “নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর স্থানীয় পুলিশের যদি কোথাও গাফিলতি প্রমাণিত হয় তাহলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আরও পড়ুন: বারুইপুর গণধর্ষণ কাণ্ডের প্রতিবাদে মোমবাতি মিছিল মমতার, উঠল ‘বিজেপি হটাও’ স্লোগান

উল্লেখ্য, তরুণীর দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে গতকাল উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা বারুইপুর। অবরোধ করা হয় রেললাইন। এমনকি প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সড়কপথে যান চলাচল বন্ধ ছিল। উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে মৃত্যু হয় এক অভিযুক্তের। আর বাকি চারজনের মধ্যে তিনজন ইতিমধ্যেই পুলিশের খপ্পরে। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই ঘটনাগুলির নেপথ্যে রাজনৈতিক দলগুলির ভোটে হেরে যাওয়ার ক্ষোভ কাজ করছে। তাদেরও ফল ভুগতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে নির্যাতিতার পরিবারের পাশে থাকার জন্য সমস্ত আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।