দারিদ্রতা নিত্য সঙ্গী, ISC-র পরীক্ষায় ৯৫% নম্বর বাগান কন্যার, IAS হওয়ার স্বপ্ন তাঁর

Published:

ISC Result 2026

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সাফল্যের পথে যে কোনও কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়ায় না তা আবারও প্রমাণ করল চা বাগানের মেয়ে। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে আইএসসির দ্বাদশ শ্রেণীর ফলাফল (ISC Result 2026)। সেখানে ৯৫ শতাংশ নম্বর পেয়ে তাক লাগিয়েছে বাগান কন্যা কনক টোপনো। বয়স ১৭। ছোট্ট দোচালা বাড়ি, টিনের চাল। একটা ঘরে থাকেন বাবা-মা, আর একটা ঘর মেয়ের। আবার বারান্দাতেই রান্নার জায়গা। সেখানেই কষ্ট করে পড়াশোনা তাঁর। বড় হয়ে আইএএস হওয়ার স্বপ্ন দেখে সে (Success Story)।

অভাবনীয় সাফল্য বাগান কন্যার

জলপাইগুড়ির হলদিবাড়ি চা বাগান এলাকার বাসিন্দা কনক। এবছর দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষায় ইংরেজিতে ৯২, ইতিহাসে ৯৫, হিন্দিতে ৯৫, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ৯৭ নম্বর পেয়ে মোট ৯৫ শতাংশ নম্বর তুলেছে সে। এছাড়াও ভূগোলে ৯০ এবং পরিবেশবিদ্যায় ৮৮ নম্বর পেয়েছে কনক। তাঁর বাবা চা বাগানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী আর মা বাড়ির কাজ সামলান। বাবা-মায়ের পড়াশুনা বেশি দূর না। মেয়েকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন তাঁরা। তাঁরা চান, মেয়ে একদিন নিজের পায়ে দাঁড়াক এবং বড় সরকারি চাকরি করুক। পেনশনের সামান্য টাকাতেই চলে সংসার। আলাদা করে টিউশনে ভর্তি করাতে পারেননি মেয়েকে। স্কুলের পড়াশোনায় তাঁর ভরসা ছিল। সেখান থেকেই বাজিমাত মেয়ের।

এ বিষয়ে তাঁর স্কুলের প্রিন্সিপাল ফাদার অ্যালবার্ট জোসেফ বলেছেন, এবছর আমাদের স্কুল থেকে মোট ৪৬ জন পরীক্ষায় বসেছিল। তবে কনকের সাফল্য সবথেকে নজরকাড়া। কারণ সে অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান। দিন আনা দিন খাওয়া অবস্থা। চা বাগানের মেয়ে হয়েও যে এত ভালো ফলাফল করা যায় তা সত্যিই গর্বের বিষয়। কনকের বাবার কথায়, মেয়ে এতো ভালো রেজাল্ট করবে ভাবতেও পারিনি। ও গোটা চা বাগানের মুখ উজ্জ্বল করেছে। এরকম অবস্থায় বহু ছেলেমেয়ে মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। অথচ ও সম্পূর্ণ উল্টো রাস্তায় হেঁটেছে। ওঁর সাফল্য অন্যান্য ছেলেমেয়ের অনুপ্রেরণা যোগাবে।

আরও পড়ুন: ভারতের নাগরিকত্ব নীতি ও পাসপোর্টের নিয়মে বড় বদল

ভবিষ্যতে ইউপিএসসি পরীক্ষায় বসে আইএএস হওয়ার স্বপ্ন দেখেন কনক। তাঁর বক্তব্য, প্রতিদিন ভোর সাড়ে চারটেয় উঠে ১০ ঘণ্টা পড়াশোনা করতাম। স্কুলে যা পড়াতো তা থেকেই আমার পড়াশোনা। মাঝেমধ্যে মন ভালো রাখার জন্য কিছুক্ষণ খেলতাম। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডাও দিতাম। কষ্ট করে আমার মা-বাবা আমাকে পড়াশোনা করাচ্ছেন। আইএএস অফিসার হয়ে ওদের দুঃখ আমি ঘোচাতে চাই। আমার সাফল্যের পিছনে আমার বাবা-মায়ের অবদান অনস্বীকার্য।